আজ
|| ১লা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১১ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশের তারিখঃ ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে গঠিত একটি গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। এই সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক এবং দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করাই এর প্রধান লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বইমেলার আয়োজন হলেও বাংলাদেশের অমর একুশে বইমেলার তাৎপর্য আলাদা। এটি কেবল একটি সাহিত্য আয়োজন নয়; বরং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, মাতৃভাষার অধিকার আদায় এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্মারক।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবছর বইমেলার পরিসর বাড়লেও গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ ও সাধারণ মানুষের পাঠাভ্যাস একই হারে বাড়ছে কিনা—সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবার সময় এসেছে।
বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বই শুধু জ্ঞানার্জনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের চিন্তা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বই পড়া মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি করে স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ায় এবং আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের ফলে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইন্টারনেট আসক্তি বই পড়ার অভ্যাসে বাধা সৃষ্টি করছে। ইন্টারনেট জ্ঞানার্জনের মাধ্যম হলেও দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে থাকা শরীর ও মনোজগতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষকরা সতর্ক করছেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক জরিপ অনুযায়ী বই পড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো সন্তোষজনক নয়। গড়ে একজন বাংলাদেশি বছরে মাত্র তিনটি বই পড়েন এবং বই পড়ার পেছনে ব্যয় করেন খুবই সীমিত সময়। এই বাস্তবতা পরিবর্তনে অমর একুশে বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তারেক রহমান বলেন, অমর একুশে বইমেলা যেন শুধু বই কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং এটি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মনন বিকাশের কেন্দ্র হয়ে ওঠে—এটাই প্রত্যাশা।
মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তিনি বলেন, অমর একুশে এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। ভাষা শহীদদের চেতনা ধারণ করেই বাংলা একাডেমির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে অমর একুশে বইমেলার আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতে এই মেলাকে আন্তর্জাতিক বইমেলায় রূপ দেওয়ার বিষয়েও তিনি বিবেচনার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বইমেলা আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বসাহিত্য, বহুভাষা ও বহুসংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, যা নাগরিকদের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের বিকল্প নেই। এ জন্য বাংলা ভাষার উন্নয়নের পাশাপাশি একাধিক ভাষা শেখার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বইমেলা আয়োজনকে সারা বছরব্যাপী দেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রকাশকরা উদ্যোগ নিলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
শেষে তিনি জানান, তরুণ প্রজন্মের মেধা ও মনন বিকাশে বাংলা একাডেমির গবেষণাবৃত্তি, লেখক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সেমিনারের মতো উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত করা হবে।
Copyright © 2026 The Daily Front News. All rights reserved.