আজ
|| ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
খুদে শিশুদের খাওয়ানো হচ্ছে বিষাক্ত ডিম, পোকাযুক্ত পেয়ারা, নিম্নমানের কলা ও বনরুটি
প্রকাশের তারিখঃ ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
জামালপুরের মেলান্দহে স্কুল ফিডিং কর্মসূচী
জামালপুরের মেলান্দহে স্কুল ফিডিং কর্মসূচীর আওতায় খুদে শিশুদের মাঝে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খুদে শিশুদের খাওয়ানো হচ্ছে বিষাক্ত ডিম, পোকাযুক্ত পেয়ারা, নিম্নমানের কলা ও বনরুটি। এলাকাবাসী ও শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, প্রায়ই নিম্নমানের খাবার সংগ্রহ করেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন স্কুল ফিডিং কার্যক্রম ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে চালু হয়েছে, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলবে । এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৬৫টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি স্কুলের ৩১ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচ দিন পুষ্টিকর খাবার-যেমন ফর্টিফায়েড বিস্কুট, ডিম, দুধ, কলা ও পাউরুটি দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে বাসি পছা, মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। যা সরজমিনে গিয়ে প্রত্যক্ষ করা হয়েছে।
স্কুল ফিডিং প্রকল্পের মূল লক্ষ্য: শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতি বাড়ানো, ঝরে পড়া রোধ, পুষ্টির ঘাটতি পূরণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন। খাবার: সপ্তাহে ৫ দিন সুষম ও পুষ্টিকর খাবার (ডিম, দুধ, বিস্কুট, ফল) দেওয়ার নির্দেশনা আছে বাস্তবে তার সাথে কোন মিল নাই।
দরিদ্রপ্রবণ ও নির্বাচিত ১৬৫টি উপজেলায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তারমধ্যে জামালপুর জেলার মেলান্দহ, বকশিগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী উপজেলা অন্তর্ভুক্ত।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) এই প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। ফিডিং সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম Island trading limited। এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হলেও বাস্তবে কতটুকু বাড়বে তা দেখভালের দায়িত্ব কেউই নিতে চাচ্ছেন ন। এব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: আলী আহসানের সাথে ১২ এপ্রিল সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন স্কুল ফিডিং বিষয়ে আমার কোন দায় দায়িত্ব নেই। এর সম্পুর্ণ দায়-দায়িত্ব উপজেলা শিক্ষা অফিসারের। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিটরিং করেন বিল প্রদানের সুপারিশ করেন।
তিনি আরও বলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারও স্কুল ফিডিং বিষয়ে মনিটরিং করেন।
এবিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিন্নাতুল আরার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, স্কুল ফিডিং বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে আমরা তাৎক্ষনিক যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছি। কোন কোন ক্ষেত্রে, মেয়াদউত্তীর্ন, ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি, দুর্গন্ধযুক্ত বাসি খাবার পচা কলা,সিদ্ধ ডিম সরবরাহ করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু আমরা জানা মাত্রই কর্তৃপক্ষকে অব্যাহিত করছি।
Island trading limited স্কুল ফিডিং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এলাকা ভিত্তিক সাব সরবরাহকারী নিয়োগ দিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত করছেন। বিশ্বস্তসূত্রে জানা যায় মেলান্দহ উপজেলায় স্থানীয় ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত স্কুল ফিডিং সরবরাহকারী রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী এই জন্য নিম্নমানের ফিডিং কোমলমতি শিশুদের খাওয়ানো হচ্ছে ফলে পুষ্টি বদলে শিশুরা পচা সিদ্ধ ডিম, নিম্নমানের কলা, পাউরুটি ও বিস্কুট খাচ্ছে। ফলে শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যের ঝুঁকির সম্মুখীন। স্থানীয় ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত ফিডিং সরবরাহকারী রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছে না।
ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এবিষয়ে কথা বলতে তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত মেলান্দহ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী চকদার নারাজ। শিক্ষা অফিসার কোথায় যেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোপনীয় চুক্তিতে আবদ্ধ। শিশুদের নিম্নমানের ফিডিং সরবরাহ করা হচ্ছে তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না অজ্ঞাত কারণে।
ফিডিং এর প্রতিটি সিদ্ধ ডিমের মূল্য ধরা হয়েছে ৬০ গ্রাম ১৩ টাকা, প্রতিটি কলা ১০০গ্রাম ৯.৫০ টাকা, বনরুটি প্রতিটি ১২০ গ্রাম ২২টাকা ধরা হয়েছে। কোন খাদ্যেরই গ্রামের হিসেবে সঠিক উজন নাই বলে শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন।
মেলান্দহ উপজেলায় স্কুল ফিডিং এর আওতায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫৯ স্কুলে ২২০৭২ জন। সপ্তাহে ২২০৭২ জনের ফিডিং সরবরাহ করা হচ্ছে। যা একমাত্র প্যাকেট দুধ ছাড়া সকল আইটেম নিম্নমানের এবং অস্বাস্থ্যকর বলে নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা জানান। যথাযথ তদারকির অভাবে কোমলমতি শিশুদের খাওয়ানো হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর নিম্নমানের ফিডিং।
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বৃদ্ধি ও পুষ্টি উন্নয়নের কথা মাথায় নিয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হলেও এর যথাযথ মনিটরিং নাথাকা দায়িত্ব অবহেলার কারণে এই কর্মসূচির মুখ থুবড়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। মেলান্দহ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ আলী চকদাররের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আরো বলেন, স্কুল ফিডিং বিষয়ে আমরা অভিযোগ পাচ্ছি তা গ্রুপে লেখা লেখি করছি তবে ফিডিং এর মান আগের চেয়ে উন্নতি হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মান অনুযায়ী সরবরাহ করছেন না কিন্তু তাদের বিলে ঠিকই স্বাক্ষর করছেন, এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন সদত্তোর দিতে পারেন নাই।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা নিম্নমানের খাবার পরিবেশন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যাতে সঠিক মানের ফিডিং সরবরাহ করে এর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ করেছেন।
Copyright © 2026 The Daily Front News. All rights reserved.