আজ
|| ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
পুলিশের অভিযানে জামালপুরে নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
প্রকাশের তারিখঃ ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
জামালপুরে মাদক বিরোধী অভিযানে লকসি বেগম (৪১) নামের নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নারী মাদক ব্যবসায়ী ইসলামপুর উপজেলার বেপারী পাড়া এলাকার মৃত বাবুল বেপারীর মেয়ে । তার বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে তাকে জামালপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ইয়াহিয়া আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, জামালপুর পুলিশ সুপার মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিন এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ইয়াহিয়া আল মামুন এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এসআই খাইরুজ্জামান এর নেতৃত্বে এসআই মোঃ কায়ছার আহম্মেদ, এএসআই ফরহাদ উদ্দিন, কনস্টেবল আঃ করিম এবং নারী কনস্টেবল পারুল আক্তার সহ সদর থানা পুলিশের একটি টিম মঙ্গলবার বিকাল ৪ টা ৫০ মিনিটে জামালপুর পৌরসভার সিংহজানী রোড মেষ্টাখানবাড়ী সংলগ্ন (পুর্ব কাচারীপাড়া) এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নারী মাদক ব্যবসায়ী লকসি বেগম (৪১)কে গ্রেফতার করে। পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে পালিয়ে যায় ২ মাদক ব্যবসায়ী।
এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসী ও সাক্ষীদের সম্মুখে তল্লাশি করে নারী মাদক ব্যবসায়ীর হেফাজত থেকে ১০৪ গ্রাম (২০টি পুটলা) হেরোইন, ১৫০০ পিচ ইয়াবা (উদ্ধারকৃত মাদকের মুল্য ১৪,৯০,০০০/- (চৌদ্দ লক্ষ নব্বই হাজার) টাকা) উদ্ধার করা হয়। পরে থানার এস আই খাইরুজ্জামান বাদী হয়ে নারী মাদক ব্যবসায়ী প্রধান আসামী করে পলাতক ২ আসামীর নাম উল্লেখ্য করে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬(১) এর ৮(গ)/১০(ক)/৪১ ধারায় জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। এদিকে লেবু ব্যপারীর স্ত্রী লকসি বেগম (৪১) সহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সিংহজানী রোড মেষ্টা খান বাড়ী সংলগ্ন (পুর্ব কাচারীপাড়া) এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও হেরোইন এর ব্যবসা করে আসছে। এই চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার জন্য সদর থানার এসআই খাইরুজ্জামান ১ মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। পাশাপাশি লাগিয়েছেন ৮/১০ টি সোর্স। এ ছাড়াও এস আই খাইরুজ্জামান সদর থানায় যোগদান এর পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে আসছেন।
সদর থানার এস আই খাইরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত আসামি স্বীকার করে যে, সে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ ও বিক্রয়ের সাথে জড়িত। পলাতক অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, জামালপুর পুলিশ সুপার মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিন স্যার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ইয়াহিয়া আল মামুন স্যার এবং সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মিজানুর রহমান স্যার যেভাবে মাদকের বিরুদ্ধে যে অবস্থান নিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ সদর থানার সকল অফিসার এবং পুলিশ সদস্যরা আমরা সামনে আরো ভাল কিছু কাজ দেখাব। সবার দোয়া এবং সহযোগিতা চাই।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদক চক্রের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। জনসাধারণকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন হতে এবং তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।জামালপুর জেলা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জামালপুর পুলিশ সুপার মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, জামালপুর জেলাকে মাদকমুক্ত রাখতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর এবং আপসহীন। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।
Copyright © 2026 The Daily Front News. All rights reserved.