আজ
|| ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন
প্রকাশের তারিখঃ ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
জ্বালানি সংকট ও তাপপ্রবাহের সঙ্গে ভ্যাপসা গরমের মধ্যে রাজশাহীর তানোরে শুরু হয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং। এতে পরীক্ষার্থী থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বেকায়দায় পড়েছেন। পাশাপাশি বেড়েছে মশার উপদ্রব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নেসকো (পিডিবি) দিনে-রাতে ৮ থেকে ১০ বার বা তারও বেশি এবং পল্লি বিদ্যুৎ তার চেয়েও বেশি লোডশেডিং দিচ্ছে। সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা, রাত এমনকি গভীর রাতেও চলছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। এতে পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটছে পরীক্ষার্থীদের।
বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা চলায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার হলও স্বস্তিকর থাকছে না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও শ্রমজীবী মানুষ। রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে ঘুম; এ ছাড়াও বাড়ছে বিভিন্ন রোগব্যাধির ঝুঁকি।
পিডিবির লোডশেডিংয়ের সময় অনেকেই বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন, তবে মশার উপদ্রবে সেখানে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়ছে। পৌর এলাকায় মশক নিধনে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলায় পিডিবি ও পল্লি বিদ্যুৎ দুই ধরনের সংযোগ ব্যবহার করা হয়। চান্দুড়িয়া বাজার ও তানোর পৌর এলাকা পিডিবির আওতায়, আর বাকি এলাকা পল্লি বিদ্যুতের আওতাধীন।
পৌর এলাকার বাসিন্দা বাবু, সানি, রাজা, সাহেব, টুটুল ও রাজ্জাক জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ বার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে এক ঘণ্টার আগে ফেরে না।
কৃষক আজহার, মনসুর ও ইউসুফ জানান, বিল এলাকার ইরি-বোরো ধান কাটার সময় ঘনিয়ে এলেও সেচসংকটে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। বিশেষ করে আলু জমির বোরো ও আউশ ধানের জন্য সেচ জরুরি হলেও বিদ্যুৎ না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে সেচযন্ত্রও নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় দোকানদার ডলার, দীপক, ইসহাক ও হাকিমসহ অনেকে জানান, আগে গ্যাস বা মাটির চুলায় চা তৈরি হলেও এখন বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। কিন্তু ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসায় ধস নেমেছে। চাহিদার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্রেতা হারাতে হচ্ছে।
কম্পিউটার ব্যবসায়ী আসকান, সেলিম, রাফি ও মাইনুল বলেন, নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় কাজের বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। বিদ্যুৎ থাকলে কাজ নেই, আর কাজ এলে বিদ্যুৎ থাকে না এমন অবস্থায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, অবৈধ সেচযন্ত্র স্থাপন ও অনিয়ন্ত্রিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে সংকট আরও বেড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না থাকলেও বিল বাড়ানো হচ্ছে নিয়মিত।
পল্লি বিদ্যুৎ তানোর জোনের ডিজিএম রেজাউল করিম খান জানান, উপজেলায় ৫৮ হাজারের বেশি গ্রাহক রয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা ২৩-২৪ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১৫-১৬ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং বেড়েছে। তবে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী অমিত হাসান আরিফ জানান, তাদের গ্রাহক সংখ্যা ১১ হাজারের বেশি। চাহিদা প্রায় ৬ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৩ থেকে সাড়ে ৩ মেগাওয়াট। এ কারণে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না এবং লোডশেডিং বেড়েছে।
Copyright © 2026 The Daily Front News. All rights reserved.