আজ
|| ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
মমেকে ছাত্রদলের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত
প্রকাশের তারিখঃ ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ক্লাস, পরীক্ষা স্থগিত ও হল ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার রাতের ঘটনায় শনিবার একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী সাত দিনের জন্য সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই দিন দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল আলম খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. সেহেলী জান্নাত সুলতানাকে সভাপতি করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. শামীমুল মাসুদ আহমেদ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল হক। এই কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের বাঘমাড়া ছাত্র হোস্টেলে ছাত্রদলের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুজন আহত হয়েছে।আহতরা হলেন- মো. মুয়াজ ও মীর হামিদুর। তারা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মো. মুয়াজ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী এবং মীর হামিদুর কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের কর্মী।
পুলিশ ও কলেজ সূত্র জানায়, কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী মুয়াজ শুক্রবার রাতে মীর হামিদুরের কক্ষে যান। সেখানে বাইকে তেল ভরাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। হামিদুর ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে মীর হামিদুর চা খেতে বাইরে গেলে স্টিলের পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে হামিদুরের গ্রুপের সদস্যরা মুয়াজকে ধাওয়া করলে তিনি একটি কক্ষে ঢুকে নিজেকে আটকে রাখেন। এরপর মুয়াজকে উদ্ধার করতে তার গ্রুপের সদস্যরা এগিয়ে এলে দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসা নেওয়ার পর সকালে মুয়াজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হামিদুর হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। দুইজনের মাথায় আঘাত করা হয়েছে। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে নাফিউল ইসলাম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা মো. নাজমুল আলম খান জানান, আগামী সাত দিনের জন্য সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। কলেজের পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Copyright © 2026 The Daily Front News. All rights reserved.