আজ
|| ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
মাদারগঞ্জে সেতু নির্মাণ হলো না তিন যুগেও
প্রকাশের তারিখঃ ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার ৫নং জোড়খালী ইউনিয়নের চরগোলাবাড়ী গ্রাম ও এর পার্শ্ববর্তী ১৫-২০টি গ্রামের মানুষের স্বপ্ন এখনও একটি পূর্ণাঙ্গ সেতু। একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চরগোলাবাড়ীর ৩০ হাজার মানুষ। সূনীল গঙ্গাধ্যায়ের কবিতার মতো ৩৬ বছর কেটে গেছে কেউ কথা রাখেনি!
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই জনপদের মানুষ প্রতিদিন নদী পার হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। গ্রামের পশ্চিম পাশে, জোড়খালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে মাত্র ৫০০ ফুট দূরে একটি নদী রয়েছে, যা পার হয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ হাট-বাজার, স্কুল ও কৃষিকাজে যাতায়াত করেন। বিশেষ করে, ৫নং জাহানারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৮০০ জন শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই নদী পারাপারে সীমাহীন কষ্টের সম্মুখীন হন। বর্ষাকালে নৌকায় পারাপারই একমাত্র ভরসা, যা হয়ে ওঠে জীবনের ঝুঁকিপূর্ণ এক অভিযান।
এই সেতুর নির্মাণকাজ একবার শুরু হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। কিন্তু অতিব দুঃখের বিষয়! দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে বছরের প্রলয়ঙ্করী বন্যায় নির্মাণাধীন অংশ ভেঙে যায় এবং এরপর আর তা পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এরপর কেটে গেছে তিন যুগ, কিন্তু বদলায়নি এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-গাথা।
দক্ষিণ মাদারগঞ্জে গোলাবাড়ি এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ও রাজনৈতিবিদরা বলেন, “আমরা ভোট দিই, আশা করি ব্রীজ হবে, কিন্তু প্রতিবছরই শুধু আশ্বাস মেলে। বাচ্চারা স্কুলে যেতে কাদাপানিতে হাঁটে, কেউ কেউ নদীতে পড়ে আহতও হয়।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, কৃষিপণ্য পরিবহন, অসুস্থ রোগী পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রতিটি জীবনেই এই সেতুর অভাব প্রকটভাবে অনুভব হচ্ছে। অনেকে বিকল্প পথ ধরে মাইলের পর মাইল ঘুরে যাতায়াত করতে বাধ্য হন।
উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এই ব্রিজের গুরুত্ব অপরিসীম
সরকার যখন দেশের প্রতিটি প্রান্তে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেতু না থাকাটা এক গভীর বঞ্চনার প্রতিচ্ছবি। চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হলে অবিলম্বে এই সেতু নির্মাণ করা দরকার।
স্থানীয় জনগণ, সুশীল সমাজ এবং সচেতন নাগরিকদের জোর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় সংসদ সদস্য এই ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন এবং সরকারের “গ্রাম হবে শহর”– এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু দৃষ্টি কামনা করছেন এলাকার আপামর জনসাধারণ।
Copyright © 2026 The Daily Front News. All rights reserved.