• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৪ অপরাহ্ন

দেওয়ানগঞ্জে কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন, কোটি টাকার পানিফল চাষ

মদন মোহন ঘোষ / ২৫৪ Time View
Update : সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫

দেওয়ানগঞ্জে কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন, পরিত্যক্ত জলাশয়ে কোটি টাকার পানিফল চাষ

দেওয়ানগঞ্জে পানিফল চাষীদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে। এবছর পরিত্যক্ত জলাশয়ে প্রায় কোটি টাকার পানিফল চাষ হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগের কয়েকশ নারী-পুরুষ পানিফল ক্রয়-বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। পানিফল থেকে গ্লুকোজ তৈরীর সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পানিফল শুকিয়ে আটা তৈরী করে রুটিসহ বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার তৈরী করা হচ্ছে।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলাসহ আশপাশ এলাকায় পরিত্যক্ত জলাবদ্ধ পানিতে এবছর প্রায় পাঁচ কোটি টাকার পানিফল চাষ হয়েছে। পানিফল বিক্রি করে কৃষকের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে। উৎপাদিত পানিফল প্রক্রিয়া জাত করে গ্লুকোজ তৈরী করা যাবে বলে কৃষিবীদরা আশা করেছেন। কার্তিক অগ্রহায়ন মাসে কৃষকের হাতে নগদ অর্থ কম থাকায় অসময়ে পানিফল বিক্রি করে যে নগদ অর্থ হাতে পায় কৃষক তাতেই খুশি। পানিফল এখন অর্থকারী ফসলের রূপ নিয়েছে। পানিতে ভাসমান গাছে জন্মায় বলে নাম হয়েছে পানিফল। স্থানীয় ভাবে সিঙ্গারা নামে পরিচিত। দেখতে খাবারের দোকানে ভাজা সিঙ্গারার মত, তাই সিঙ্গারা হিসাবে ফলটির নাম ব্যাপক পরিচিত রয়েছে। গাঢ় সবুজ ও খয়েরী রংয়ের এ ফলটি খোসা ছাড়িয়ে খেতে হয়। ভিতরের শাঁস দুধের মত সাদা, খেতে খুবই সুস্বাদু, কোমল ঠান্ডা।

এলাকার সাধারণ মানুষ সিঙ্গারা সিদ্ধ করে সকালের নাস্তা হিসাবে খায়। পাকা সিঙ্গারা সবজি হিসাবে ব্যবহত হয়। সিঙ্গারা রোদে শুকিয়ে মেশিনে অথবা ঢেঁকিতে পানিফলের আটা তৈরী করে রুটি বানিয়ে খাওয়া হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রতন মিয়া জানান, সিঙ্গারা শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রচুর পরিমাণ গ্লুকোজ রয়েছে। এ পানি ফল দেশে প্রক্রিয়াজাত করে গ্লুকোজ তৈরী করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ফসল জন্মায় না এমন ধরনের পরিত্যক্ত ৪০ হেক্টর জমিতে পানিফল উৎপাদন হয়েছে ৩’শ ২০ মেট্রিকটন। প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছে ৮ মেট্রিকটন। ১২’শ টাকা মন দরে প্রতি টনের দাম ৩৩ হাজার টাকা হিসাবে মোট ১ কোটি ৫লাখ ৬০ হাজার টাকার পানিফলের চাষ হয়েছে। বর্তমানে কাঁচা সিঙ্গারা ৮-৯’শ টাকা, পাকা সিঙ্গারা ১১-১২’শ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

পানীফল চাষ করিম মিয়া জানান. তিনি পানিফল চাষ করে সংসারের অভাব ঘুচিয়ে পরিবারের সাবলম্বি হয়েছে। পানিফল চাষীরা সবাই তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। পানিফল চাষীরা জানান, দেওয়ানগঞ্জ তার আশপাশ এলাকায় হিমাগার না থাকায় সিঙ্গারা সংরক্ষণ করা যায় না। ২-৩দিনের বেশি সিঙ্গারা থাকলে পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে কৃষক আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চৈত্রমাসে কাঁদা পানিতে সিঙ্গারার চারা রোপন করতে হয়। বর্ষার জলাশয় গুলো পানিতে ভরে যায়।

রোপনকৃত গাছগুলো বেরে যায়। কার্তিক মাস থেকে সিঙ্গারা তোলা শুরু হয়ে শেষ হয় পৌষমাস পর্যন্ত। কিন্তু এবছর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় কার্তিক মাসেই পানিফল চাষ শেষ হয়ে যাবে। প্রতিবছর দেওয়ানগঞ্জ ষ্টেশনের পেছনে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কেনা-বেচা হয় পানিফল। ঢাকা ময়মনসিংহ সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নারী ও পুরুষ ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ট্রাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছে। সিঙ্গারা চাষী ফরহাদ জানান, রেলের লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় পানিফলের পাইকাররা আসতে পারছে না। অতিরিক্ত খরচ করে বাধ্য হয়ে ট্রাকে বিভিন্ন স্থানে পানিফল নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category