জামালপুরের মেলান্দহে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা। গ্রাম বাংলার এই আয়োজন দেখতে ভীড় জমায় শিশু, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষসহ হাজারো দর্শক। অনেকেই আবার প্রথমবারে মতো দেখছে এই খেলা। আবহমান এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে প্রতিবছর এমন আয়োজন করার আশ্বাস দিয়েছে আয়োজকরা। মাঘ মাসের শুকনো মাঠে ঘোড়া উপরে উঠে দিতে হয় দৌড়। কয়েকটি ঘোড়ার সাথে লড়াই করে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌছানোর এমন খেলাকেই বলে ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা।
মঙ্গলবার ( ২০ জানুয়ারি) শীতের পড়ন্ত বিকেলে দীর্ঘদিন পর জামালপুরের মেলান্দহের হরিপুর ভাটিপাড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা। যা দেখতে ভীর জমাই হাজারো দর্শক। অনেকেই আবার গ্রামীন বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দেখছে প্রথমবারের মতো। নারী-পুরুষ, শিশু- বৃদ্ধ সকলেই আনন্দে উচ্ছসিত এমন খেলা দেখে।
প্রতিযোগিতায় জামালপুর, শেরপুরসহ বেশকয়েকটি জেলা থেকে ঘোড়া নিয়ে আসেন অংশগ্রহণকারীরা। প্রায় অর্ধশত ঘোড়া পর্যায়ক্রমে এ খেলায় অংশ নেয়। খোলা মাঠে আয়োজকরা পাটের রশি বেঁধে একটি নির্দিষ্ট সীমা তৈরি করেন। আর সেখানেই কয়েকপাক দৌড়ে অংশ নেয় তারা। আর তাদের ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে জড়ো হয় হাজারো মানুষ।
খেলা দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, গ্রামাঞ্চলের মানুষ খুব একটা বিনোদনের সুযোগ পায় না। এমন আয়োজন সত্যিই মানুষকে মুগ্ধ করে। পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা মাঠে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখার মধ্যে অন্য রকম মজা পান তারা। নানা রঙয়ের ছোট-বড় ঘোড়া দেখে শিশুরাও আনন্দিত হয়। এমন আয়োজন সবসময় হলে বাড়তি বিনোদন পাবে গ্রামাঞ্চলের মানুষ।

ঘোড়া নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া বিভিন্ন জেলার মানুষেরা জানান, শুধু টাকার জন্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেন না তারা। সাধারণ মানুষদের বিনোদিত করার পাশাপাশি নিজেরাও আনন্দ পান। এটা তাদের কাছে নেশার মতো। মানুষকে আনন্দ দিতে পেরে তারাও খুশি হন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নাংলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কিসমত পাশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে বিএনপির উপজেলা কমিটির সভাপতি মঞ্জুরুল কবির মঞ্জু, বিএনপি নেতা শ্যামল তালুকদার, নূর নবী মন্ডল, বজলুর রহমান, জাকির হোসেন, আবু সুফিয়ান প্রমূখ। খেলাটির শুভ উদ্বোধন করেন অবসর প্রাপ্ত কর্ণেল ফজলুল হক।