জামালপুর সদর উপজেলার কৈডোলা শাহবাজপুর এলাকায় সরকার ফুড ও বেভারেজ লিমিটেড নামক এক অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানকে ভেজাল সয়াবিন তেল বোতলজাত করে বাজারজাত করার অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসময়ে কারখানায় সংরক্ষিত তেলভর্তি ড্রাম ও বোতল জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকালে সরকার ফুড ও বেভারেজ লিমিটেডে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হায়দার।জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত সরকার ফুড ও বেভারেজ লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে পণ্যের মোড়কে বিএসটিআই এর মানচিহ্ন ও ভুয়া কিউআর কোড ব্যবহারপূর্বক পণ্যসমূহ বিক্রয়-বিতরণ ও বাজারজাত করে আসছিলো। শুধু তাই নয়, কারখানাটিতে কোন ল্যাবরেটরি ও ল্যাব সহকারী না থাকায় উৎপাদিত পণ্যের গুনগত মান যাচাই ছাড়া বাজারজাত করা হচ্ছিলো। সেই সাথে সয়াবিনের বোতলে সয়াবিনের পরিবর্তে পাম। অলিন ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির সত্বাধিকারী রাহাত সরকারের বিরুদ্ধে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হায়দার জানান, জামালপুর সদর উপজেলার কৈডোলা শাহবাজপুর বাজার সংলগ্ন সরকার ফুড ও বেভারেজ লিমিটেড নামে একটি ভেজাল সয়াবিন তেলের কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। এই কারখানা থেকে দীর্ঘদিন যাবত সয়াবিন তেল বোতলজাত করে বাজারজাত করা হচ্ছিলো।
তিনি বলেন, এরকম প্যাকিং করে বাজারজাত করতে বেশকিছু লাইসেন্সের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেগুলো তাদের ছিল না। এদিকে বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স ছাড়াই সয়াবিন তেল প্রক্রিয়াজাত ও মোড়কজাত করে বিভিন্ন বাজারে পাঠাচ্ছে তারা।
তিনি আরো জানান, বিএসটিআই লাইসেন্স না থাকায় সরকার ফুড ও বেভারেজ লিমিটেডকে বিএসটিআই আইন ২০১৮ এর ১৫ ও ২৭ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানায় মজুদ সয়াবিন তেল জব্দ করে জব্দ তালিকা বিএসটিআই এবং স্যানিটারী ইন্সপেক্টরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা এসব জব্দকৃত তেল পরিক্ষা নিরীক্ষা পূর্বক পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির সত্বাধিকারী রাহাত সরকার সাংবাদিকদের জানান, এ দেশে কোন প্রতিষ্ঠানই পরিপূর্ণ নয়। সবার মধ্যেই কিছু না কিছু ঘাটতি রয়েছে। বিএসটিআই এর লাইসেন্স ছাড়া মোড়কে বিএসটিআই এর মানচিহ্ন ব্যবহার কেন করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তেমন কোন বড় অপরাধ নয়। অনেকেই এই মানচিহ্ন ব্যবহার করছে, তাই তিনিও করেছেন।