সম্ভবত আগামী ছয় মাসের মধ্যে মেলান্দহ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জামালপুর জেলা শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মেলান্দহ পৌরসভা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই পৌরসভা নির্বাচনের জন্য মাঠ গরম হয়ে উঠছে। ঈদুল ফিতরের সময় মেয়র প্রার্থীরা রং বে রংঙের ব্যানার, পোস্টার, বিলবোর্ড লাগিয়ে প্রার্থীতা জানান দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। অনেকেই এলাকায় এলাকায় জনসংযোগ করছেন। নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য হোম ওয়ার্ক করছেন। সবার লক্ষ্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশী কিন্তু এবারের নির্বাচন কিভাবে হবে দলীয় প্রতীকে হবে না নির্দলীয় হবে তা সরকারের নীতিনির্ধারণী হাইকমান্ডের নির্দেশনার পরে বুঝা যাবে।
ইনর্টাম গর্ভমেন্ট আরপিও সংশোধন করে গেছেন দলীয় প্রতীকের বাইরে নির্বাচন করার। তা যদি সংশোধন না হয় সেক্ষেত্রে বিএনপির একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে ময়দানে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেলান্দহ পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় ইতোমধ্যে আগাম সতর্কসংকেত বাঁজাচ্ছেন। মাঠে ময়দানে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই-বাছাই করে নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ মাঠে না-থাকায় বিএনপির মধ্যে একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী অনেক আগেই একক প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করেছেন। বিএনপির একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকলে সুবিধা নিবে জামায়াত।
জামায়াতের একক প্রার্থী, তারা দল হিসেবে সু-সংগঠিত এবং জামায়াত কর্মীবান্ধব। নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্তা আছে জামায়াতের। মেলান্দহ পৌরসভা নির্বাচনে ইতোমধ্যে বিএনপির ৬ জন প্রার্থী ব্যানার পোস্টার সাটিয়ে ভোটের মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন। তাদের মধ্যে মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমান বিএনপির কমিটির সহ-সভাপতি, জামালপুর জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ মোহাম্মদ খায়রুল বাশার চিশতির ভাতিজা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: রফিকুল ইসলাম রহিম। তিনি আরো দুইবার মেয়র নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। এবার তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন।
মেলান্দহ পৌর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মনোয়ার হোসেন হাওলাদার গত পৌর নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচন করে পরাজিত হন। আরেক প্রার্থী মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাবেক সচিব সচিব এবং বর্তমান বিএনপির কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নুরুল আলম সিদ্দিকী।
মেলান্দহ উপজেলা পরিষদের সাবেক এই ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি মেয়ার পদের দলীয় সমর্থন আদায়ের জন্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এমপি সহ দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তদবির করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। অপরদিকে মেলান্দহ উপজেলা ছাত্র ও যুবদলের সাবেক নেতা এবং বিএনপির বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন আকন্দ দীর্ঘদিন যাবত পৌর এলাকার মানুষের মন জয় করার জন্য মসজিদ, মাদ্রাসা, ধর্মসভায় অর্থ দান করে আসছেন। তাছাড়া যুবসমাজের মাধকের থাবা থেকে মুক্ত করার জন্য বিভিন্ন ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করে যথেষ্ট অর্থ ব্যয় করছেন। ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হেলাল আকন্দও একজন প্রভাবশালী মেয়র প্রার্থী।
অন্যদিকে মেলান্দহ উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি পৌরসভার সাবেক প্রভাবশালী কাউন্সিলর, মেলান্দহ দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আলী আকবর ও মেয়র প্রার্থী হিসেবে নিজের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে সাবেক ছাত্রদল নেতা আশেক এলাহী জনি নিজেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে পৌর এলাকায় পোস্টার লাগিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
অন্যদিকে মেলান্দহ পৌর জামায়াতের আমির ও মেলান্দহ সদর ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক শরাফত ফারাজী জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে পৌরসভার ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে এবং খোশমেজাজে আছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী মজিবর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পৌর এলাকায় প্রায় ৫ হাজার ভোট পান। জামায়াতের মতে এটি তাদের দলীয় ভোট। মেলান্দহ উপজেলা পৌর নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ০৭ জন অন্যদিকে জামায়াতের একক প্রার্থী বিধায় জামায়াত নির্বার। মেলান্দহ পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল করিম রেজা মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে আলোচনায় আছে প্রার্থীর সংখ্যা কম বেশি হতে পারে। এজন্য অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত হবার পরে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জয়লাভের পরে অনেকেই আশাবাদী হয়ে উঠছেন যে দলীয় সমর্থন পেলেই মেয়র হওয়া যাবে। এজন্যই অনেকেই বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছেন।