• বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন

সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টার / ১৫ Time View
Update : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

২৮টির মধ্যে ১৮ ঘর ফাকা

সরকারের ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পে’র মূল লক্ষ্য ছিল গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা। কিন্তু জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের ডুমুরতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পে সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। ২৮টি পরিবারের জন্য নির্মিত ঘরের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১০টি পরিবার বসবাস করছে। বাকি ঘরগুলো ফাঁকা পড়ে আছে, যা ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত ও ভূতুড়ে পরিবেশে পরিণত হচ্ছে।

২০২১-২২ অর্থবছরের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় বকশীগঞ্জ উপজেলায় ২১২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১৪২টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫০টি এবং তৃতীয় পর্যায়ে ২০টি ঘর অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রথমে এসব ঘর অসহায় গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের মাঝে হস্তান্তর করা হলেও নির্মাণে অনুপযুক্ত স্থান নির্বাচন, অনিয়ম এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক ঘরে স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে বেশির ভাগ ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

ডুমুরতলা প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ২৮টি ঘরের মধ্যে ১৮টি ঘরই তালাবদ্ধ। অনেক ঘরে ফাটল ধরেছে, যা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঘরগুলোর চারপাশে আগাছা ও ঝোপঝাড়ে এলাকা ঢেকে গেছে। রাতে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে নির্জন ও অন্ধকার। শুরুতে ২৮টি পরিবার সেখানে উঠলেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তার অভাবে একে একে অনেকেই ঘর ছেড়ে চলে গেছেন।

রাত নামলেই এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়। আশপাশে বিস্তীর্ণ পাহাড় ও ঝোপঝাড় থাকায় শেয়ালসহ বন্য প্রাণীর উপদ্রব দেখা যায়। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় শিশু ও নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল অসহায় মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করা। কিন্তু প্রয়োজনীয় তদারকি ও সহায়তার অভাবে প্রকল্পটি এখন অনেকটাই প্রাণহীন হয়ে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অবশিষ্ট পরিবারগুলোর পক্ষেও সেখানে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বর্তমানে বসবাসরত ১০টি পরিবারের অভিযোগ, ঘর পাওয়ার পর তারা আর কোনো সরকারি সহায়তা বা পুনর্বাসন সুবিধা পাননি। প্রকল্পে বসবাসকারী মো. বিজয়, নুর হোসেন ও কাপাসি বেগম বলেন, “আমরা ঘর পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু কাজের ব্যবস্থা নেই, নিরাপত্তা নেই। কোনো ভাতা বা সহযোগিতাও পাচ্ছি না। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

তারা আরও বলেন, “নিয়মিত খাদ্য সহায়তা নেই, বিদ্যুতের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, চিকিৎসা ও শিক্ষা সুবিধা অনেক দূরে। রাতে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়, শেয়ালের ডাক শোনা যায়। বাচ্চারা ভয় পায়, আমরাও আতঙ্কে থাকি।

স্থানীয়দের দাবি, পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা ফাঁকা ঘরগুলোতে দ্রুত নতুন পরিবার পুনর্বাসন, নিরাপত্তা জোরদার, সোলার লাইট স্থাপন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং নিয়মিত সরকারি তদারকির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কামালপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাপ জামাল বলেন, “ডুমুরতলা আশ্রয়ণ কেন্দ্রে বর্তমানে কতজন পরিবার আছে বা চলে গেছে, তা আমার জানা নেই।” তিনি আরও জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকা পরিবারগুলোর খোঁজখবর নিয়মিত রাখা হয় না।

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হাই বলেন, “প্রকল্পগুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরত কোনো পরিবার যদি সরকারি সহায়তা না পেয়ে থাকে, তবে তাদের দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category