• রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন

মেলান্দহের আদ্রা হাইস্কুলে ৫ লক্ষাধিক টাকার গাছ কাটার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার / ২০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলাধীন আদ্রা আব্দুল মান্নান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫ লক্ষাধিক টাকার গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পরিবেশবান্ধব প্রায় ২০টি অবৈধভাবে কাটার অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফরহাদ হোসেন এবং কমিটির লোকজন মিলেমিশে কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক অনুমতি ছাড়াই গাছগুলো কেটে বিক্রি করেছেন বলে জানা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয় চত্বরে থাকা জীবিত মেহগনি ও ইউক্যালিপটাস গাছ কর্তন করা হয়।পরে এসব গাছ স্থানীয় এক পাইকারের কাছে বিক্রি করা হয়। কাটার পর ৫ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের প্রায় ৪০ পিস গাছের গুঁড়ি আদ্রা বাজারের মাঠের পূর্ব পাশে মজুত রাখা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানাজানি হলে প্রধান শিক্ষক ও কমিটির লোকজন বাঁচার জন্য অতিত তারিখ দেখিয়ে (ব্যাক ডেটে) অনুমোদনহীন একটি রেজুলেশন তৈরি করেন। মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ কমিটিতে থাকায় গাছ কাটার এই সাহস করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের গাছ কাটার প্রয়োজন হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর সভাপতিত্বে একটা কমিটি গঠন করা আছে। সেই কমিটির অনুমোদন ব্যতীত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কর্তন করার কোন নিয়ম নাই।প্রচলিত নিয়ম কানুন অনুসরণ না করে মূল্যবান গাছগুলো কর্তন করা হয়েছে। উপজেলা গাছ কাটার অনুমতির গ্রহণ না করে এই গাছগুলো কর্তন করা হয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও কোনো কারণ ছাড়াই বিদ্যালয়ের পরিবেশবান্ধব গাছ একের পর এক কেটে ফেলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রধান শিক্ষক  ধারাবাহিকভাবে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অর্থ (উচ্চ হারে ফরম ফিলাপ, চাদাঁর উত্তোলিত ও গাছ কেটে বিক্রির টাকা ভাগবাটোয়ারা করে আত্মসাৎ করে আসছেন।

এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন বলেন, গাছ কেটেছি ঠিক, তবে কোনো লিখিত বা মৌখিক অনুমতি নেওয়া হয়নি।বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে বিধায় গাছ কাটা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসের স্টাফদের মৌখিক পরামর্শে বিদ্যালয়ের গাছ কাটা হয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক এই প্রতিবেদককে মোবাইলে জানান।

উপজেলা বিএনপির সদস্য বিপ্লব সরদার বলেন, প্রধান শিক্ষক আমার শিক্ষক হওয়ায় সরল বিশ্বাসে রেজুলেশনে স্বাক্ষর দিয়েছি। তিনি নিয়ম মেনে গাছ কেটেছেন কি না, তা আমার জানা নেই। মেলান্দহ উপজেলা বন কর্মকর্তা বলেন-কাটা গাছের গুঁড়িগুলো স্থানীয় স’মিলে রাখা আছে। বিষয়টি আমি আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। গাছ কাটার বিষয়ে উপজেলা কমিটি পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

মেলান্দহ উপজেলা ইউএনও জিন্নাতুল আরা বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাইনি। নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category