• সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন

দেওয়ানগঞ্জে খাল কে রাস্তা দেখিয়ে প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার / ১৫ Time View
Update : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা চর আমখাওয়া ইউনিয়নের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় (কাবিখা প্রকল্প) ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। অস্তিত্বহীন প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি সুষ্ঠ তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয় এলাকাবাসী।

জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে চর আমখাওয়া ইউনিয়নের পাটাধোয়া পাড়া ছাত্তার মন্ডলের বাড়ি থেকে নওয়ালীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণের জন্য ৭.৪ মেট্রিক টন গম যার আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর।

কিন্তু স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা না বলেই মনগড়াভাবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে যে রাস্তাটি পুনর্নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়, সেটি মূলত একটি খাল। সেই খালকে রাস্তা দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয় প্রকল্পের সমুদয় অর্থ।

স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, পিআইও অফিস যে খালকে রাস্তা দেখিয়ে প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন, সেখানে কোনো দিনই কাজ করা হয়নি। প্রকল্পের সভাপতি ও পিআইও অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এই প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ লাঘবে রাস্তা নির্মাণের দাবিও জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে পাটাধোয়া পাড়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন, কাবিখা প্রকল্পের তালিকায় যে রাস্তাটির কথা বলা হয়েছে সেটি আসলে রাস্তা নয়। এটি একটি ছোট খালের মত। কিন্তু খালকে রাস্তা দেখিয়ে অর্থাৎ ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। যারা এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

অপরদিকে অন্য একটি প্রকল্পের কাজ শেষ করেও ঘুষ না দেওয়ায় বিল ছাড় না দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কার্য সহকারী সোহেল রানার বিরুদ্ধে।

বিল ছাড়ে ঘুষ দাবির বিষয়ে গত ১০ মার্চ দেওয়ানগঞ্জ ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি মানিকজান বেগম।অভিযোগ দায়েরের ১৯ দিন পর গত ২৯ মার্চ তার একটি প্রকল্পের বিল ছাড় দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সংরক্ষিত ইউপি সদস্য মানিকজান বেগম জানান, যেখানে অনেক প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে। কাজ না করেই বিল দেওয়া হয়েছে। সেখানে আমি কাজ করেও বিল পাচ্ছি না। সংশ্লিষ্ট অফিসের কার্য সহকারী সোহেল রানাকে ৫০ হাজার ঘুষ না দেওয়ায় আমার প্রকল্পের বিল আটকে দেওয়া হয়। পরে অভিযোগ দায়েরের পর বিল ছাড় দিয়েছে তাঁরা।

ঘুস দাবির বিষয়ে পিআইও অফিসের অভিযুক্ত কার্য সহকারী সোহেল রানার সাথে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ভুয়া প্রকল্পের বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ খবিরুজ্জামান খান বলেন, টিআর, কাবিখা প্রকল্পের কাজ গুলো পরিদর্শন করেছি। প্রকল্প গুলোর কাজ দেখে বিল ছাড় দেওয়া হয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। কোনো প্রকল্পে অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category