প্রত্যেকটি মানুষের জীবনেই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ‘বন্ধুত্ব’। বিশেষ করে, একটি শিশুর সামাজিক ও মানসিক বিকাশের ‘বন্ধুত্ব’ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে অনেক শিশুর ক্ষেত্রে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা সহজ হয়ে থাকে না বলে নানান কারণে অনেকেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবা-মায়ের নেওয়া কিছু পদক্ষেপের কারণে একটি বড় পার্থক্য থাকতে পারে। এক্ষেত্রে, শিশুর জন্যে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে, সামাজিক দক্ষতা শেখানোর মাধ্যমে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদেরকে কিছু নির্দেশনা দিতে পারেন।
আপনার সন্তানকে সহজে মানুষের সাথে মিশতে এবং প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়ে তুলার জন্য কিছু কার্যকর উপায় আছে যেমনঃ
ছোট ছোট অ্যাক্টিভিটিস-এ অংশগ্রহণ করান:
আপনার সন্তানকে ড্রয়িং ক্লাস, নৃত্য কর্মশালা, বুক ক্লাব, বা ক্রীড়া দলের মতো অ্যাক্টিভিটিস-এ অংশগ্রহন করান। যাতে এই পরিবেশে থেকে আপনার সন্তানকে অন্যদের সাথে কথা বলার, খেলার জন্যে উৎসাহিত করবে।
তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করুন:
আত্মবিশ্বাসী বাচ্চারা সবসময় নতুন কোনো দলে/গ্রুপে অংশগ্রহন করে নতুন কোনো দলে বা নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হয়। যার মাধ্যমে নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হওয়ার পাশাপাশি বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।
সন্তানদেরকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করানোর চেষ্টা করুন:
অন্তর্মুখী শিশু অনেক মানুষের ভিড়ে থাকলে ঘাবড়ে যেতে পারে। এজন্য আপনার সন্তানকে একটি স্বাচ্ছন্দ্যময়, খোলামেলা, পরিচিত পরিবেশের ব্যবস্থা করে যাতে শিশুদের বিশ্বাস তৈরি হয় এবং মানুষের সাথে মিশতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
সন্তানের সামাজিক দক্ষতা বিকাশ করুন:
অনেক শিশু ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সামাজিক পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তার কারণে লড়াই করে। এজন্য নিজেই তাদের বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করুন এবং তাদেরকে কঠিন কাজগুলো করতে সাহায্য করুন।
তাদের কে বলুন-
– আমিও তোমার সাথে খেলাধুলা করতে চাই
– আমি কি তোমার সাথে খেলায় অংশগ্রহন করতে পারি?
– ঠিক আছে এখন হয়নি হয়তো পরের বার
– আমি ছবি আঁকতে ভালোবাসি, তোমার কেমন লাগে?
– এই নাও তোমার রঙিন রঙিন পেন্সিল, চলো একসাথে ছবি আঁকি!
তাই নিয়মিত এই অনুশীলনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে এবং আপনার সন্তানের জীবনে সামাজিকীকরণকে আরো সহজ এবং স্বাভাবিক করে তুলতে পারে।