জৈব মালচিং এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারসহ স্বল্প বিনেয়োগে অধিক লাভের উদাহরণ তৈরি করেছেন ইসলামপুরের কৃষক দেলোয়ার হোসেন। সোমবার ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নের সভারচর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে কৃষক দেলোয়ার হোসেনের চাষ করা মরিচের উৎপাদন, চাষ প্রক্রিয়া, বিক্রি, লাভের বর্ণনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা শোনে আশার সঞ্চার হয়।
তিনি জানান আগে আমি সাধারণ পদ্ধতিতেই মরিচ চাষ করতাম। এইবার ওয়ার্ল্ড ভিশন ও উন্নয়ন সংঘের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন জেসমিন প্রকল্পের আওতায় উৎপাদক দলের সভায় অংশগ্রহণ করে জৈব মালচিং পদ্ধতি অনুসরণ করে মরিচ চাষের অধিক লাভবান হবার গল্প শুনি। প্রকল্পের কর্মী ভাইদের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতায় অস্থির-১ জাতের মরিচের বীজ সংগ্রহ করি। এর আগে জৈব মালচিং পদ্ধতির নিয়ম অনুযায়ী ক্ষেত তৈরি করি।
দেলোয়ার বলেন তিন মাসের মধ্যেই মরিচ আসা শুরু করে। পরীক্ষামূলকভাবে ১০ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করে সাকুল্যে ব্যয় হয় ১৫ হাজার টাকা। গত অক্টোবর মাসে আবাদ শুরু করেন তিনি। এ পর্যন্ত সে মরিচ বিক্রি করেছেন ৬১ হাজার টাকা। বন্যা না আসা পর্যন্ত মরিচ বিক্রি করা যাবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন মরিচের দাম এখন ভাল। আরও ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করা যাবে।
জানা যায় মাত্র দুইবার সেচ দিতে হয়েছে। ক্ষেতে ঘাস কম হওয়ায় কামলা খরচও কম হয়েছে। যা মালচিং এর প্রত্যক্ষ সুফল। দেলোয়ার পাশের ২০ শতাংশ জমিতে সাধারণ পদ্ধতিতে মরিচ চাষ করে ২০ হাজার টাকা খরচ করে ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। তিন মাসের মধ্যেই ফলন বন্ধ হয়ে যায়। ওই ক্ষেত ভেঙ্গে অন্য ফসল আবাদ করেছেন কৃষক দেলোয়ার। হাইব্রিড মরিচচাষে সে লাভবান হয়েছেন।
তিনি বলেন মরিচের আবাদ দেখতে এলাকার অন্য কৃষকরা আসেন। আগামীতে তারাও মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষ করার আশাবাদ জানিয়েছেন। অনেকেই উৎপাদক দলের সদস্য হওয়া ও সভায় অংশগ্রহণ করার জন্য তাকে অনুরোধ করেছেন। দেলোয়ার মরিচ চাষ করে সংসারের স্বচ্ছলতার পাশাপাশি টাকা সঞ্চয়ের কথা বলেছেন। একই সাথে তিনি আগামীতে ৩০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে মরিচের আবাদ করার পরিকল্পনা করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা, অধিকতর প্রশিক্ষণ এবং ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ড ভিশন ও উন্নয়ন সংঘের সহযোগিতা ও পরামর্শ চান।
এ ব্যপারে ওয়ার্ল্ড ভিশনের জেসমিন প্রকল্পের কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. পরিমল সরকার বলেন আমরাই জামালপুরে প্রথম জৈব মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করার জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করেছি। মরিচসহ ৭টি নির্বাচিত ফসল নিয়ে আমরা কাজ করছি। প্রায় প্রত্যেকটিরই প্রদর্শনী প্লট তৈরি করেছি। সাধারণ পদ্ধতিতে আবাদের চেয়ে জৈব মালচিং পদ্ধতিতে এবং আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চাষাবাদ করলে লাভবান হওয়া যায় তার বড় উদাহরণ আমাদের প্রদর্শনী প্লটগুলো। তিনি বলেন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং স্বল্প ব্যয়ে অধিক ফলনের লক্ষে জৈব মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদকে জনপ্রিয় করা হবে।
প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শনের আগে সভুরচর উৎপাদক দলের সাথে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের দায়িত্ব, কর্তব্য ও কার্যক্রম এবং সফলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পরে ইসলামপুর জেসমিন প্রকল্পের জ্যেষ্ঠ কর্মীদের সাথে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মাঠ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ উন্নয়ন পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম, ওয়ার্ল্ড ভিশনের লাইভলিহুড ম্যনেজার মো. মোশফেকুর রহমান, জেসমিন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক অসীম চ্যাটার্জি, ভ্যালুচেইন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ কবির, নিউট্রিশন বিশেষজ্ঞ নাহিদা ইসলাম, জেন্ডার বিশেষজ্ঞ শফিকুর রহমান, কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ কওনান মোরছালিন, এমএন্ডই ম্যানেজার মো. সাখাওয়াত হোসেন, উন্নয়ন সংঘের জেসমিন প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী বিজন কুমার দেব।