• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
Headline
উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী মাদারগঞ্জে সেতু নির্মাণ হলো না তিন যুগেও জামালপুরে জামায়াতের উপজেলা দায়িত্বশীলদের দিন ব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত বকশীগ‌ঞ্জে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাবুর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন জাবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগে বির্তক, একাডেমিক মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ইসলামপুরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উত্থাপন মমেকে ছাত্রদলের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র প্রবেশে নতুন নির্দেশনা সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়নপত্র নিলেন অভিনেত্রী চমক দেশজুড়ে বজ্রবৃষ্টির আভাস

“মাই খই গেছইন”: কানাডার পার্লামেন্টে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি ডলি বেগম

দ্য ডেইলি ফ্রন্ট নিউজ ডেস্ক / ১৮ Time View
Update : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

কানাডার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হলো। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে কানাডার ফেডারেল পার্লামেন্টে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৩ এপ্রিল সোমবার রাতে টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে তিনি লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। সমস্ত ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, ডলি বেগম প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। কিংস্টন রোডের একটি ব্যাংকোয়েট হলে বিজয় উদযাপনের মঞ্চে যখন তিনি উঠলেন, তখন সমর্থকরা একসঙ্গে “ডলি, ডলি, ডলি” বলে চিৎকার করছিলেন। ডলি বেগম শুরুতেই সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় খোঁজে নিচ্ছিলেন তাঁর মা’কে। মাই খই গেছইন ( মা কোথায় গেলেন ? )। নিজের মা বাবা এবং পরিবারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ডলি বেগম তাঁর বক্তৃতা শুরু করেন। ডলু বেগমের বিজয়ী বক্তৃতা কানাডা পার্লামেন্টের একজন এমপি’র নয়, একজন আন্তর্জাতিক মানের নেতার বক্তৃতা হিসেবে আলোচিত হচ্ছে সর্বমহলে।

আবেগঘন বিজয় ভাষণে ডলি বেগম বলেন, “আজ রাতে আমরা এমন কিছু উদযাপন করছি যা অত্যন্ত শক্তিশালী — একটি সম্প্রদায় একত্রিত হয়েছে, তাদের পার্থক্য দূরে রেখে আশা, সহানুভূতি ও অগ্রগতি বেছে নিয়েছে।” তিনি তার প্রয়াত স্বামী রিজুয়ানকে স্মরণ করেন এবং এই জয় তাকে উৎসর্গ করেন — মঞ্চে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এই রাত সত্যিই আপনাদের।

ডলি বেগমের জন্ম ১৯৮৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায়। শিশু বয়সে পরিবারের সঙ্গে কানাডায় অভিবাসী হন এবং টরন্টোর স্কারবোরোতে বেড়ে ওঠেন। তিনি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে উন্নয়ন, প্রশাসন ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

ডলি বেগমের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রদেশীয় স্তরে। ২০১৮ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি অন্টারিও নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের প্রাদেশিক পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন — ওই সময় তিনি ছিলেন দলের সবচেয়ে কমবয়সী সদস্য এবং কানাডার কোনো আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি-কানাডিয়ান। পরবর্তীতে তিনি ২০২২ সালে অন্টারিও এনডিপির ডেপুটি লিডার হিসেবে মনোনীত হন।

তবে ২০২৬ সালের শুরুতে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে চমক দিলেন। দীর্ঘদিনের দল এনডিপি ছেড়ে ফেডারেল লিবারেল পার্টিতে যোগ দিয়ে উপনির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেন। তার এই সিদ্ধান্ত প্রাদেশিক এনডিপি নেতা মারিট স্টাইলসহ দলের অনেক সদস্যকে অবাক করে দেয় এবং ফেডারেল এনডিপির কাছ থেকে কড়া সমালোচনা আসে। কিন্তু ডলি বেগম তার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনটি শূন্য হয়েছিল দীর্ঘদিনের লিবারেল এমপি বিল ব্লেয়ারের পদত্যাগের পর, যিনি যুক্তরাজ্যে কানাডার হাই কমিশনার পদে নিযুক্ত হন। এই আসনটি ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের ব্যতিক্রম ছাড়া দশকের পর দশক ধরে লিবারেলদের দখলে ছিল। এই নির্বাচনে ডলি বেগম কনজার্ভেটিভ প্রার্থী ডায়ানা ফিলিপোভা, এনডিপি প্রার্থী ফাতিমা শাবান এবং গ্রিন পার্টির প্রার্থী পূজা মালহোত্রাকে পরাজিত করেন।

ডলি বেগমের এই জয়ের রাজনৈতিক গুরুত্ব শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার এই বিজয় প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকারের জন্য একটি সংকীর্ণ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। সোমবার রাতে তিনটি উপনির্বাচনেই লিবারেলরা জয়ী হওয়ায় দলটির আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭৪, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১৭২টি আসন। কানাডার ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা — ২৪ জন প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে মাত্র ১৪ জন তাদের দলকে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নিয়ে যেতে পেরেছেন এবং মার্ক কার্নি এখন সেই দলের ১৪তম সদস্য।

তবে বিরোধী দলের নেতা পিয়েরে পোয়িলিয়েভর এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, “কার্নির লিবারেলরা সাধারণ নির্বাচন বা উপনির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বরং পেছনের দরজার সমঝোতার মাধ্যমে এটা অর্জিত হয়েছে, যেখানে রাজনীতিকরা তাদের ভোটদাতাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।”

বাংলাদেশের মৌলভীবাজার থেকে অভিবাসী হয়ে কানাডার স্কারবোরোর রাস্তায় বড় হওয়া একটি মেয়ে — যে ২৯ বছরে প্রাদেশিক আইনসভায় পা রেখেছিল, ডেপুটি পার্টি লিডার হয়েছিল এবং এখন ফেডারেল পার্লামেন্টে পৌঁছে গেছে। ডলি বেগমের গল্পটি শুধু একটি রাজনীতিকের জয়ের গল্প নয়, এটি ডায়াসপোরার স্বপ্নপূরণের গল্প। দেশের বাইরে বাংলাদেশিদের সাফল্যের গল্প।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category