জামালপুরের মদারগঞ্জে এক গৃহবধূর বাড়িতে রাতে আঁধারে হামলা; মেয়ের কান কেটে কানের দুল ছিনতাই, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করার অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, গতকাল ১৫ মে ২৬ (শুক্রবার) জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ১নং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পাকরুল এলাকায় এক গৃহবধূর বাড়িতে রাতের আধাঁরে ঘরে ঢুকে মেয়ের কান কেটে কানের দুল, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছাঃ মাহফুজা বেগম মাদারগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে পাকরুল এলাকার মৃত জহের আলীর ছেলে মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৪০), জাহাঙ্গীর আলম (৩৮), জুয়েল কামারসহ একই এলাকার আরও ৫-৬ জন মাহফুজা বেগমের বসতবাড়িতে টিনের বেড়া ও দরজা কেটে জোরপূর্বক অবৈধভাবে প্রবেশ করে।
সে সময় মাহফুজা বেগমের ছোট মেয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। বাবা মা ছিল অন্য কক্ষে, অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে, মাহফুজার মেয়ের মুখ চেপে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এতে বাধা দিলে অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলামের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মেয়েটির কানের একটি অংশ কেটে যায়। এ সময় তার কানে থাকা স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ছুটে আসার আগেই হামলাকারীরা ঘরের সিন্দুকের তালা ভেঙে নগদ ৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণের গলার হার, এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, এক ভরি স্বর্ণের রুলি নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে আহত মেয়েটিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহা শীষ রায় জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ মে জাহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে ১৫ মে বিকালে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী দাবি করেন, দীর্ঘদিন আগে গবাদিপশু নিয়ে তাদের সঙ্গে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।