• শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন

এই সরকারের অর্ধেক আ.লীগ হাইজ্যাক করেছে : হাসনাত

দ্য ডেইলি ফ্রন্ট নিউজ ডেস্ক / ১৮ Time View
Update : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মূখ্য সমন্বয়ক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘বিএনপির বর্তমান সরকারদলীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। এখন ওনার প্ল্যান স্পষ্ট করতে হবে। এই প্ল্যান আমরা দেখলাম আদতে সরকারের হাতে কোনো প্ল্যান নেই। সরকারকে অর্ধেক হাইজ্যাক করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। অর্ধেক নানা ভাগে এই সরকারকে ভাগ করে নিয়েছে। সুতরাং, এই সরকার যদি মনে করে দেশটাকে যথাযথভাবে পরিচালনা করতে হবে, তাহলে তারা জনগণের কাছে ফিরে আসতে হবে।

তিনি বলেছেন, ‘রাস্তায় যখন মানুষ নেমে আসে তখন মিলিটারি, পুলিশ, প্রশাসন, কামান, হেলিকপ্টার পাঠিয়েও সরকারকে টিকিয়ে রাখা যায় না। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে রীতি পরিবর্তনের আগেই মানুষ তার বিকল্প বেছে নেবে।

সোমবার (২৫ মে) বিকেলে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে স্থানীয় এনসিপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গত ২২ মে শুক্রবার ঝিনাইদহে এনসিপির কেন্দ্রীয় মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় এনসিপি ও জেলা ছাত্রদল পাল্টাপাল্টি মামলা করে। ছাত্রদলের দায়ের করা মামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাসহ তিনজকে আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আইনমন্ত্রীর জেলা ঝিনাইদহ। দুঃখের বিষয়, সেখানেই আজ আইন আদালত সরকারের একটি মহলের হাতে বন্দী। সরকার পুলিশ ও বিচার বিভাগকে নিজেদের দলীয় এজেন্ডা দ্বারা পরিচালিত করছে।

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে আমাদের আশা ছিল, পুলিশ জনগণের বাহিনী হবে। কিন্তু আমরা দেখছি, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরকারের দলীয় সমর্থক হিসেবে নিজেদেরকে পরিচয় দিচ্ছে। এটা লজ্জাজনক।

হাসনাত আবদুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার আওয়ামী লীগের পথে হাটছে। আওয়ামী লীগের মতো বিচার, আদালত ও পুলিশকে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার বানাচ্ছে। আওয়ামী লীগ এইসব কারণে জনরোষে পড়ে বিদায় নিয়েছে। এই সরকার যদি আওয়ামী লীগের মতো হওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা তা মেনে নেবো না। জেল, জুলুম, নির্যাতন করে মানুষকে দমিয়ে রাখা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা (বিএনপি-এনসিপি-জামায়াত) যখন একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছি, তখন ভারতে বসে আওয়ামী লীগ হাসছে। আমরা নিজেরা লড়ছি। কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে এটা হওয়ার কথা ছিল না।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এই ঝিনাইদহ যেভাবে অপশাসন, বিএনপি যেভাবে বিরোধীদলীয় মত এবং পথ দমনের পন্থা অবলম্বন করেছে সেটা আপনারাই সাক্ষী। আপনারা দেখেছেন গত ২২ মে আমাদের এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাসহ স্থানীয় এনসিপি নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশক্তি যুবশক্তি নেতৃবৃন্দের উপরে কিভাবে মসজিদের মধ্যে ঢুকে মসজিদের কম্পাউন্ডের বাহিরে কিভাবে নগ্নভাবে তাদেরকে হামলা করেছে। আওয়ামী লীগের সময় আমরা দেখতাম, ছাত্রলীগ-যুবলীগ বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপরে হামলা করত, হামলা করে আবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা করত। একই পন্থায় আমাদের এনসিপি-যুবশক্তি এবং ছাত্রশক্তির উপরে হামলা করে আবার তারা মামলা দিয়েছে। অন্যদিকে আমরা দেখলাম, যখন আমাদের এনসিপির নেতৃবৃন্দ মামলা দেয়ার জন্য থানায় গেল। তাদের দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হল। বিভিন্নভাবে সময় ক্ষেপণের মধ্য দিয়ে এনসিপির মামলা যতক্ষণ না পর্যন্ত উপর থেকে রিমোট কন্ট্রোল পরিচালিত না হয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই স্থানীয় প্রশাসন পুলিশ মামলা নেয়নি। অথচ ছাত্রদলের মামলা পুলিশ ত্বরিত গতিতে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাইয়ের পরে আশা করেছিলাম একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ, দল নিরপেক্ষ এবং ল’ফুল একটি পুলিশ বাহিনী বাস্তবায়ন হবে। অথচ আমরা দেখলাম পুলিশ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সামনেই বক্তব্য দেয় তারা একটি নির্দিষ্ট দলের চেতনায় উজ্জীবিত এবং এই দলের সাথে তারা কখনোই কোন কম্প্রোমাইজ করবে না। পুলিশ তো কোন দলের হওয়ার কথা ছিল না। পুলিশ বিএনপিরও হবে না। পুলিশ জামাতেরও হবে না। পুলিশ এনসিপিরও হবে না। পুলিশ হওয়ার কথা হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের। যেটা আইনগত বিষয় সেটা আইনগতভাবে সমাধান করবে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে শহরের পায়রা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এনসিপি নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা, মূখ্য সমন্বয়ক রিফাত রশিদ প্রমুখ। এসময় এনসিপির ঝিনাইদহ জেলা কমিটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, ঝিনাইদহে ছাত্রদল নেতার দায়ের করা মামলায় গতকাল রোববার গ্রেফতার হন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা। পরে সোমবার সকাল ১০টায় তিনি জামিন পান। একই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় ঝিনাইদহ জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category