দেশের আটটি শিল্পাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার শিল্পকারখানার মধ্যে এখনো প্রায় ৩৭ শতাংশ কারখানার শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়নি। একই সঙ্গে প্রায় ৫ শতাংশ কারখানায় এপ্রিল মাসের বেতনও বকেয়া রয়েছে।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২৪ মে) বিকেল ৪টা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে থাকা ১০ হাজার ২৩৮টি শিল্পকারখানার মধ্যে ৬ হাজার ৪৯৩টি কারখানা শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে। অর্থাৎ এখনো ৩ হাজার ৭৪৫টি কারখানায় বোনাস বাকি রয়েছে, যা মোট কারখানার ৩৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এছাড়া ৫৩৫টি কারখানায় এপ্রিল মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১১৫টি।
এর আগে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ২১ মের মধ্যে ঈদ বোনাস এবং নির্ধারিত সময়ে মাসিক বেতন পরিশোধের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। শ্রমিকনেতাদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন-বোনাস না দিলেও মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।
অন্যদিকে শিল্পমালিকেরা বলছেন, এপ্রিলের বেতন, ঈদ বোনাস এবং চলতি মে মাসের আংশিক অগ্রিম বেতন একসঙ্গে পরিশোধ করতে গিয়ে অনেক কারখানা আর্থিক চাপে পড়েছে। তাদের দাবি, সোমবার ও মঙ্গলবারের মধ্যেই অধিকাংশ কারখানায় বকেয়া পরিশোধ করা হবে।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত ১ হাজার ৭৯০টি কারখানার মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ এখনো বোনাস দেয়নি। তবে বিজিএমইএ বলছে, তাদের সচল ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার ৯২ শতাংশ ইতোমধ্যে বোনাস পরিশোধ করেছে।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “দুটি কারখানায় বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যা ছিল। একটি সমাধান হয়েছে, অন্যটির সমাধানের চেষ্টা চলছে। এদিকে বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত ৭০৮টি কারখানার মধ্যে প্রায় ৩৯ শতাংশের বোনাস এখনো বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “আমাদের অধিকাংশ কারখানা বেতন পরিশোধ করেছে। অনেক কারখানা সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার ছুটির আগে বোনাস দেবে। শ্রমিক নেতারা বলছেন, পোশাক খাতের মালিকেরা রপ্তানি প্রণোদনা পেয়েও সময়মতো শ্রমিকদের বেতন-বোনাস না দেওয়াটা দুঃখজনক।