স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পর্যায়ক্রমে মাঠ থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে সিলেট অঞ্চলের পাথর আহরণ বিষয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার নীতিগতভাবে মনে করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে অনির্দিষ্টকালের জন্য সেনাবাহিনীকে মাঠে রাখা সম্ভব নয়। নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্বগ্রহণের পর পুলিশ বাহিনীকে সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে। এই অবস্থায় আমরা পর্যায়ক্রমে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিচ্ছি। কীভাবে এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হবে, তা পুলিশ, সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
সিলেট অঞ্চলের পাথর কোয়ারি পুনরায় ইজারা দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক এবং খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই জেলার পুলিশ সুপারদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে নদীতে পলি জমা, সীমান্ত পরিবর্তনের ঝুঁকি, পরিবেশের ক্ষতি ছাড়াই কত গভীরতায় পাথর উত্তোলন সম্ভব, এসব বিষয়ে সুপারিশ করবে। পাশাপাশি বিছানাকান্দি, সাদা পাথর ও ভোলাগঞ্জের মতো পর্যটন এলাকাগুলোর সুরক্ষাও নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জাফলংয়ের মতো ‘ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া’ ঘোষিত এলাকাগুলো ইজারার বাইরে থাকবে। চলতি মাসের শেষে কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর জুনের প্রথম সপ্তাহে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সুনির্দিষ্ট তালিকা করে যৌথ ও একক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক, অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।