পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। বর্তমান দামের তুলনায় এই বৃদ্ধির হার প্রায় ১৭ থেকে ২১ শতাংশ।
বুধবার (২০ মে) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। শুনানির আয়োজন করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
শুনানিতে পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, চলতি অর্থবছরে সংস্থাটির সম্ভাব্য ঘাটতি প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা এবং আগামী অর্থবছরে তা বেড়ে ৬৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তার ভাষায়, বিদ্যুতের দাম সমন্বয় না করা হলে বিদ্যুৎখাত বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়বে।
তিনি আরও জানান, জ্বালানি আমদানি ব্যয়, ডলার সংকট, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভর্তুকির চাপ সামাল দিতেই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব আনা হয়েছে। বিশেষ করে এলএনজি, কয়লা ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে পিডিবির এ প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনের সদস্যরা। গণশুনানিতে অংশ নিয়ে সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে শিল্প-কারখানার উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়বে।
তিনি অভিযোগ করেন, পিডিবির প্রস্তাবে জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাই এই গণশুনানি বাতিলের দাবি জানান তিনি।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের প্রতিনিধিরাও বলেন, বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি চার্জ এবং দুর্বল পরিকল্পনার দায় সাধারণ গ্রাহকের ওপর চাপানো উচিত নয়। তারা বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এদিকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং বাজারে পণ্যমূল্যের ওপর নতুন চাপ তৈরি হবে। এতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।
প্রসঙ্গত, পাইকারি ও খুচরা- উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর বুধবার ও বৃহস্পতিবার গণশুনানির আয়োজন করেছে বিইআরসি। শুনানি শেষে কমিশন পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।