পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে গেছে বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই আন্দোলনে ঢুকে গেছে জানিয়ে এই ফাঁদে পা না দিতে পোশাক শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। শ্রমিকদের মূল দাবি অনুযায়ী ইতোমধ্যে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পোশাক শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় দেশের শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে, অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয় এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নিয়মিত ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। আইন অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি জানান, শ্রমিকদের মূল দাবি ছিল দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন এবং ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ। গত পরশু রাতে এবং গতকাল সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এ বোর্ডে শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের নামও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
রাজপথে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে যারা রাস্তায় আন্দোলন ও সহিংসতা করছে, তাদের সঙ্গে মূলধারার শ্রমিক বা শ্রমিক নেতাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। গত কয়েক দিনের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিছু মুখোশধারী ও স্বার্থান্বেষী মহল আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করেছে। শ্রমিকদের ক্ষতি ও স্বার্থহানির উদ্দেশ্যে তারা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। মজুরি বোর্ড গঠন ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাই শিল্পকারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।