জামালপুরের মাদারগঞ্জে মসজিদ কমিটির দ্বন্ধে শত বছরের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিক্ষের বিরুদ্ধে। চলাচলের রাস্তায় দেওয়াল নির্মাণের ফলে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত আবেদন করেছেন। ভূক্তভোগিদের অভিযোগ বংশগত আভ্যন্তরীণ বিরোধে রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, বিষয়টি তদন্তে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামের পূর্ব ফাজিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালযের যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি শতবছর ধরে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষ চলাচল করে আসছে।
সম্প্রতি বংশগত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন রাস্তায় দেওয়াল নির্মাণ করে রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। এলাকার ভূক্তভোগিদের অভিযোগ রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় পূর্ব ফাজিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র। এই রাস্তা বন্ধ করা হলে ভোটারদের যাতায়াত ব্যাহত হবে। পাশাপাশি স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়বে।
ফাজিলপুর গ্রামের মোজাম্মেল তরফদার বলেন, আমারও জম্মের আগে থেকে এই রাস্তা। সম্প্রতি নিজেদের বংশের মধ্যে মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধ চলছে। বিরোধ কে কেন্দ্র করে দুইটি পক্ষ হয়ে গেছে। একপক্ষ মাদ্রাসার নামে ওয়াক করে দেয়া। রাস্তায় আরেকটা বারান্দা তুলে রাস্তা বন্ধ করছে। ঈদের আগে মালেশিয়া আমার ভাতিজা মারা গেছে দেওয়াল তুলে রাস্তা বন্ধ তার লাশ বাড়িতে আনতে পারি নাই। ওরা আওয়ামীলীগের সময় দাপট দেখাইছে। এখনও দাপট দেখাচ্ছে। তিনি চোখের পানি ছেড়ে বলেন, পারিবারিক দ্বন্ধ এমন পর্যায়ে গেছে তারা ইরাকের হুরমুজ পয়েন্ট তৈরি করেছে। আমরা কেউ ঈদ পালন করতে পারি নাই। আমার বড় ভাইকে মেরে দাঁত ভেঙ্গে দিয়েছে। সেকারের কাছে দাবি হুরমুজ পয়েন্ট টা যেন বন্ধ হয়।
তবে প্রতিপক্ষের দাবি কোন রাস্তা বন্ধ করা হয়নি। রাস্তার কোন কাগজপত্র নাই, রেকর্ডেও নাই। নাছির উদ্দিন বলেন,আসলে আমাদের মসজিদ কমিটি আছে সেটা দেড় বছর যাবত। প্রতি বছরই কমিটি পরিবর্তন হয়। মসজিদের সিঁড়ি দিয়ে বয়স্করা উঠতে পারে না। এটা কোন সরকারি রাস্তা না। তাই এখানে সিঁড়ি করবো এইটাই এখন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এটা পারিবারিক সমস্যা না এটা তাদের মানষিক সমস্যা। মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেছেন,রাস্তার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পর্কিত আমি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করতে দিয়েছি। প্রতিবেদন পাওযার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।