• রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন

জামালপুরের ৪ কলেজে পাস করেনি কেউ

স্টাফ রিপোর্টার / ৩৬ Time View
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জামালপুরের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেখা দিয়েছে হতাশাজনক চিত্র। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২২ জন শিক্ষার্থীর একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

এর মধ্যে মেলান্দহ উপজেলার একটি কলেজ টানা দুই বছর ধরে কোনো পরীক্ষার্থীকে পাস করাতে পারেনি। অন্যদিকে, আরেকটি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ শিক্ষকসংকট ও নিয়মিত পাঠদান না হওয়াকে ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।বোর্ডের ফলাফল অনুযায়ী, জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর কুমারিয়া নাসুবা হাকিম বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ছয়জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও তাঁদের কেউ পাস করতে পারেনি।

মেলান্দহ উপজেলার এসএম শিখা মুখলেছুর রহমান কলেজের ফলাফলও একই। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার দুজন ও মানবিক শাখার দুজনসহ মোট চারজন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। কলেজটি উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের চর সগুনা এলাকায় অবস্থিত।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রতিষ্ঠানটির গত বছরের ফলাফলও ছিল শূন্য। ২০২৫ সালে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার চারজন ও মানবিক শাখার ছয়জনসহ মোট ১০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে টানা দুই বছর ধরে কলেজটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।

এ ছাড়া মাদারগঞ্জ উপজেলার নব্বচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাঁচজন এবং ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সাতজন পরীক্ষায় অংশ নেন। এ দুই প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি।

নব্বচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। সেখানে কর্মরত শিক্ষকেরা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করেন। এ কারণে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। গত বছরও প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ ছিল, তবে এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। আগামী বছর কীভাবে ফলাফলের উন্নতি করা যায়, সে চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, গোয়ালেরচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আফসানা তাসলিম বলেন, জেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য, বিষয়টি তাঁদের জানা রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরি করে শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হবে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এ বছর জামালপুরের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২২ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। এর মধ্যে একটি কলেজের টানা দুই বছরের শূন্য ফলাফল এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান না হওয়ার তথ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category