জামালপুরের সরিষাবাড়ীর রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা শেখ রাসেলের গ্রেপ্তার। তাঁর অনুসারীদের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন আইনগত পদক্ষেপ নয়; বরং দীর্ঘদিনের দলীয় কোন্দল, গ্রুপভিত্তিক প্রতিহিংসা এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ।
ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য শেখ রাসেলকে গত রাতে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
ঢুরিয়ারভিটা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহেব আলীর তৃতীয় ছেলে শেখ রাসেল স্থানীয় আওয়ামী রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে সরিষাবাড়ী যুবলীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি তাঁর সমর্থকদের। তাদের ভাষ্য, জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক সক্ষমতার কারণেই তিনি স্থানীয় একাংশের রোষানলে পড়েন।
শেখ রাসেলের অনুসারীরা অভিযোগ করেন, দলের ভেতরের একটি সুবিধাবাদী ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাঁকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করতে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছিল। অবশেষে সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাঁকে “হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায়” গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তাঁদের ভাষায়, “শেখ রাসেলকে জেলে পাঠানো হয়েছে, কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে বন্দি করা যায়নি। বরং এই গ্রেপ্তার তাঁকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। যাঁরা তাঁকে থামিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাঁরা হয়তো বুঝতে পারছেন না—একজন নেতাকে সাময়িকভাবে আটক করা যায়, কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক প্রভাবকে নয়।”
সমর্থকদের আরও দাবি, সরিষাবাড়ীর রাজনীতিতে বহুদিন ধরেই গ্রুপভিত্তিক আধিপত্যের লড়াই চলছে। সেই লড়াইয়ের বলি হয়েছেন শেখ রাসেল। তারা অভিযোগ করেন, অতীতে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা এবং মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া একটি অংশই এখন নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে শেখ রাসেলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিস্তারিত তথ্য এবং গ্রেপ্তারের কারণ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরিষাবাড়ীর রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নতুন নয়। তবে যখন দলীয় প্রতিযোগিতা প্রতিহিংসার রূপ নেয়, তখন আইনি পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। ফলে শেখ রাসেলের গ্রেপ্তারের ঘটনা আইন প্রয়োগের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, নাকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার কৌশল—সেই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে।
এদিকে তাঁর সমর্থকদের ভাষায়, “এটি শুধু একজন নেতার গ্রেপ্তার নয়; এটি সরিষাবাড়ীর আওয়ামী রাজনীতির ভেতরের অস্থিরতা ও বিভক্তির আরেকটি প্রকাশ্য প্রতিচ্ছবি।”
তবে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত শেখ রাসেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে প্রমাণিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তাঁর সমর্থকদের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগের সত্যতাও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।