• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন

জামালপুরে এমএ রশিদ হাসপাতালের দুই ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার / ৫৫ Time View
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

জামালপুরে ইউনাইটেড গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সর্দারপাড়ায় অবস্থিত এম. এ. রশীদ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর জটিলতা, চার দফা অপারেশনের পরও ভোগান্তিতে একজন নারী কর্মকর্তা দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

২৬ অক্টোবর জামালপুরে নামকরা বেসরকারি এম এ রশীদ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর গুরুতর শারীরিক জটিলতার অভিযোগ তুলে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন সাবেরী শারমিন নামে একজন সরকারি কর্মকর্তা । তিনি জামালপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউনাইটেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠানে চলতি বছর ২৯ জানুয়ারি জামালপুর শহরের সরদারপাড়ায় অবস্থিত এম. এ. রশীদ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরবর্তী সময়ে ঢাকার একটি হাসপাতাল এবং ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাঁকে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতে তাঁর Colovaginal Fistula শনাক্ত হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

জামালপুর সদর আমলি আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তরা হলেন এম. এ. রশীদ হাসপাতালের পরিচালক ও জেনারেল সার্জারির কনসালটেন্ট ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এবং অবস অ্যান্ড গাইনির কনসালটেন্ট ডা. সাবরিনা বরকত। মামলাটি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩৩৬, ৩৩৭ ও ৩৩৮ ধারায় দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার আরজিতে বাদীপক্ষের দাবি, তলপেটে তীব্র ব্যথা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০ জানুয়ারি তাঁকে এম. এ. রশীদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা ডিম্বনালি ও ডিম্বাশয়সংলগ্ন সংক্রমণ এবং ডিম্বাশয়ে সিস্টের কথা জানান। পরে ২৯ জানুয়ারি অস্ত্রোপচার করা হয়।

বাদীর অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে জরায়ু বা প্রজনন অঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ অংশ অপসারণের বিষয়ে তাঁকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি এবং এ ধরনের অস্ত্রোপচারের জন্য পৃথক ও সুনির্দিষ্ট সম্মতি নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, চিকিৎসা পরিকল্পনা ও বাস্তবে সম্পাদিত অস্ত্রোপচারের মধ্যে অসামঞ্জস্য ছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অস্ত্রোপচারের পর তাঁর জ্বর, বমি, তীব্র পেটব্যথা ও পেট ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পেটে স্থাপিত ড্রেন টিউব দিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত তরলও বের হতে থাকে। এসব উপসর্গের যথাযথ মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে অবহেলা করা হয়েছে বলে বাদীপক্ষের অভিযোগ।

পরবর্তী সময়ে ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ঢাকার পপুলার হাসপাতালে ভর্তি হলে ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর Exploratory Laparotomy ও Peritoneal Toileting অস্ত্রোপচার করা হয়। বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পেটের ভেতরের অবস্থা পরীক্ষা ও দূষিত তরল পরিষ্কারের জন্য এ অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়েছিল।

এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ২২ ফেব্রুয়ারি ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হন সাবেরী শারমিন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে তাঁর Colovaginal Fistula শনাক্ত হয়। এটি বৃহদান্ত্রের অংশ ও যোনিপথের মধ্যে অস্বাভাবিক সংযোগ তৈরি হওয়ায় একটি জটিলতার সৃষ্টি হয়।

চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, ২৩ মার্চ তাঁর Exploratory Laparotomy ও Diversion Loop Ileostomy করা হয়। পরে ২০ জুন Exploratory Laparotomy ও Ileostomy Reversal অস্ত্রোপচার করা হয়। মামলার আরজিতে আরও দাবি করা হয়েছে, পরবর্তী অস্ত্রোপচারে Rectosigmoid Junction ও Vaginal Vault-এর মধ্যে ফিস্টুলাসংক্রান্ত সংযোগের বিষয়টি উঠে আসে।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, প্রথম অস্ত্রোপচারের সময় বা পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অন্ত্রের আঘাত, সংক্রমণ, লিকেজ কিংবা অন্য জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অস্ত্রোপচারে কোন কোন অঙ্গ কতটুকু অপসারণ করা হয়েছিল, কী ধরনের সম্মতি নেওয়া হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা-নথিতে কী উল্লেখ রয়েছে, সেসব বিষয়ও যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

মামলার আরজিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকদের কাছে চলতি বছর ২৭ আগস্ট আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও বাদীপক্ষের দাবি অনুযায়ী সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়।

বাদীপক্ষের আবেদন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য জামালপুর শহরে ইউনাইটেড গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমএ রশিদ হাসপাতালের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ আছে , অভিজ্ঞতা সম্পন্ন চিকিৎসক, কনসালটেন্ট নাই, নতুন অনভিজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতালটি পরিচালনা করা হয় এবং রোগীদের কাছ থেকে উচ্চ মূল্যের সেবা দেওয়া হয়। যা নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। এই হাসপাতালে ভর্তি হলেও লাখ টাকার বিল, ল্যাব টেস্ট এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ছাড়া ভালো চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রম এই হাসপাতালে নেই।
ইউনাইটেড গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হলো একটা ব্যবসা বানিজ্য মেলা। তারা শুধুই টাকা ইনকাম করতে চায় কিন্তু সেবা ঠিকমত পাওয়া না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। হাসপাতালে পরিচালনার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেই বলেও জানা গেছে।

হাসপাতাল টি প্রশাসনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে?

ভুক্তভোগী সাবেরী শারমিন বলেন, “একটি ভুল অপারেশনের কারণে আমাকে চারটি অপারেশন করাতে হয়েছে। তাই আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আমি ন্যায়বিচার চাই। এমএ রশিদ হাসপাতালে অপারেশনের জন্য ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু সব মিলিয়ে আমার ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

তাঁর স্বামী সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুক হোসাইন বলেন, “এমএ রশিদ হাসপাতালের বাইরের চাকচিক্য দেখে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকের ভুলের কারণে আমরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ভুল চিকিৎসার অভিযোগে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সাবেরী শারমিন মামলা করেছেন। জামালপুর আমলী আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান মামলাটি গ্রহণ করে সিভিল সার্জনকে তদন্ত করে পরবর্তী তারিখে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, “এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে এমএ রশিদ হাসপাতালে গিয়ে অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category