মেয়র নির্বাচনে বিএনপি থেকে ৫ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে জনসংযোগে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। ৫ জন প্রার্থী বর্তমানে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন এবং তাদের ব্যাপক প্রচার-প্রচারনা চলছে বিভিন্ন স্টাইলে।
তবে ৫ জন প্রার্থীর সবাই আশাবাদী তারা নিজ দল থেকে সমর্থন পাবেন। শামীম আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত, তার বিশাল একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে জামালপুর মৎস্যজীবি সম্প্রদায়ের মধ্যে। তার রাজনীতি মুলত সকাল বাজার কেন্দ্রিক। প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি’র সাথে তার সখ্যতা দীর্ঘ দিনের। শামীম মিল্লাত এমপি’র অনুসারী বলে শহরের সবাই জানে।
অপর দিকে ফিরোজ মিয়া তিনিও বিএনপির রাজনীতির সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত তিনি সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ছাত্রসংসদের নির্বাচিত জিএস ছিলেন তার ছাত্র অঙ্গন থেকেই বেশ পরিচিত আছে তার। প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি এবং নিলুফার চৌধুরী মনি এমপি’র ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে ব্যাপক প্রচারণা আছে তার এবং বিশাল একটি ঐতিহ্যবাহিক এলাকা রয়েছে জামালপুর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড পাথালিয়া। পাথালিয়ার মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে এক বলয় হিসেবে কাজ করে সবসময়ই।
অপর দিকে শাহ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তিনি বর্তমানে সদর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. শাহ মোঃ ওয়ারেছ আলী মামুনের সহোদর ছোট ভাই, তারও নিজস্ব একটি এলাকা রয়েছে দেউর পাড় চন্দ্রা। ওখান থেকেই তার বেড়ে উঠা এবং রাজনৈতিক পদচারণা শুরু। মাসুদ জামালপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। মেয়র নির্বাচনে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনি।
অপর দিকে সোহেল রানা খান উদীয়মান তরুন যুবক ও যুব সমাজের আইকন হিসেবে বর্তমানে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন এবং বেশ পরিচিত লাভ করেছেন জামালপুর পৌরসভার মধ্যে তারও নিজস্ব একটি এলাকা রয়েছে বটতলা, কাচারিপাড়া। সোহেল রানা জেলা যুবদলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। ধার্মিক ব্যাক্তি হিসেবে তার আলাদা পরিচিতও আছে।
আরেক প্রার্থী খন্দকার আসাদুজ্জামান রুমেল জামালপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। মেয়র প্রার্থী হিসেবে তিনিও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের ভিতর সৎ নিষ্ঠাবান নেতা হিসেবে তার আলাদা ইমেজ আছে। তিনি জামালপুরের বিএনপির রাজনীতির নীতি নিধারক পর্যায়ে রয়েছেন।
জামালপুর জেলা শহরে জনপ্রিয় নেতা এডভোকেট শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন এমপি। তিনি জামালপুর পৌরসভার দুইবারের নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। এমপি মামুনের ব্যাপক সমর্থন আছে জামালপুর পৌরসভার মধ্যে তার সমর্থন যে কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় একটা বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে। জামালপুর শহরে নেগেটিভ প্রচারণা আছে এক ভাই এমপি, এক ভাই বিসিবির পরিচালক, দুলাভাই জেলা পরিষদের প্রশাসক, আরেক পৌরসভার মেয়র প্রার্থী সবই তারাই। অন্য নেতাদের কাজ কি? এনিয়ে বেশ সমালোচনা আছে।
জামালপুর শহরের প্রধান সমস্যা, মাদক, রাস্তাঘাট মেরামত, জলবব্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিস্কার পরিছন্নতা, মশা, লাইটিং ব্যবস্থা, পাবলিক টয়লেট। এসব সমস্যা উত্তোরণে জামালপুর পৌরবাসীর স্বপ্ন পূরণে, প্রার্থীরা আন্তরিকতা নিষ্ঠা প্রমানে যারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে পৌরবাসীর কাছে আধুনিক ও উন্নত পৌরসভা গড়ার মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাবেন তার ভাগ্যের চাকাই এগিয়ে যেতে পারে।
ইতোমধ্যে প্রার্থীরা তাদের তাদের কাজ ও সেবা দিয়ে মানুষের মন জয় করার নানা কৌশল নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। জামালপুর শহরে প্রতিদিনই প্রার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে যাচ্ছেন। কেউ কেউ স্ব- শরীরে উপস্থিত থেকে ড্রেন। ময়লা ও ডাস্টবিন পরিস্কার করে মানুষের মন জয়ের চেষ্টা করে চলেছেন।