• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন

ইসলামপুরে যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন শতাধিক বসতবাড়ি, হুমকিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

‎আলমাছ হোসেন আওয়াল / ১২২ Time View
Update : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

‎‎জামালপুরের ইসলামপুরে হঠাৎ যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধিতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শতাধিক বসতভিটা ও কয়েক শ বিঘা ফসলি জমি। ভাঙন রোধে সরকারি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় নিজেদের উদ্যোগেই প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছেন দিশেহারা স্থানীয়রা।
‎
‎গত বছর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের চর মন্নিয়া গ্রামটি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এবার অসময়ে শুরু হওয়া ভাঙনে পূর্ব মন্নিয়া গ্রামের আজিল্লা মাঝি, নিদেনু শেখের পরিবারসহ প্রায় শতাধিক বাড়িঘর ইতিমধ্যে যমুনার বুকে হারিয়ে গেছে।

বর্তমানে ভাঙনের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে একাধিক সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়, কয়েক শত বিঘা ফসলি জমি, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সোলার প্যানেল প্রকল্প, গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক এবং অসংখ্য বসতঘর। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ৭০ বছরের পুরোনো দ্বীপচর মন্নিয়া গ্রামটি মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
‎
‎আগ্রাসী যমুনার কারণে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। এর আগে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেও কোনো প্রতিকার পাননি এলাকাবাসী। নিরুপায় হয়ে তারা এখন নিজেদের উদ্যোগে টাকা তুলে বাঁশের বাঁধ দিয়ে শেষ রক্ষার চেষ্টা করছেন।

বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক আকন্দ জানান, অসময়ে নদীভাঙন তাদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে বাঁশের বাঁধ দিলেও স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি। একইসঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম আতঙ্ক প্রকাশ করে জানান, যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ অসংখ্য বসতঘর নদীতে চলে যাবে। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিলে এ অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
‎
‎ভাঙনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। মন্নিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনোয়ারা বেগম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে কয়েক দিনের মধ্যেই ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি বিলীন হয়ে যেতে পারে। স্কুলটি রক্ষা না হলে এ অঞ্চলের শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে পিছিয়ে যাবে। অন্যদিকে, দক্ষিণ মন্নিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার খানাম জানান, তার স্কুল থেকে কয়েক শ গজ দূরেই নদীর অবস্থান। স্কুলে থাকা শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা ভেবে তারা ভাঙন রোধে একটি স্থায়ী সমাধান চান।
‎
‎এ বিষয়ে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান জানান, যমুনার চর বিশাল একটি জায়গা হওয়ায় এখানে অল্প ডাম্পিং করে ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। তারা দ্রুত সমীক্ষা করে একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, ভাঙনের তীব্রতায় ইসলামপুরের নদীপাড়ের মানুষের মাঝে চরম হাহাকার বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের দ্রুত এবং স্থায়ী হস্তক্ষেপই পারে এই জনপদটিকে যমুনার আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category