• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ন

২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী

দ্য ডেইলি ফ্রন্ট নিউজ ডেস্ক / ৮৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) অনুষ্ঠিত ‘ফিকি এফডিআই সম্মেলন ২০২৬’ ও ‘ইনভেস্টরস এক্সপো’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)।

আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৬০০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, বহুজাতিক কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মূল সম্মেলন শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী ইনভেস্টরস এক্সপো ঘুরে দেখেন এবং অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে পরিচালিত অর্থনীতি গড়ে তোলা। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এই রূপান্তরের সুস্পষ্ট রূপরেখা রয়েছে। আমরা কেবল বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি না, এই রূপকল্প বাস্তবায়নে বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও আমাদের অফুরন্ত সম্ভাবনা ও সুদৃঢ় ভিত্তি রয়েছে। আমাদের রয়েছে দ্রুত বিকাশমান বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, একঝাঁক তরুণ ও পরিশ্রমী মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং নিরঙ্কুশ জনসমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এই শক্তিগুলো বাংলাদেশকে টেকসই ও স্থায়ী সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি, কর-ভ্যাট প্রশাসন সহজীকরণ ও মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে কাজ করছে সরকার। পাশাপাশি পুঁজিবাজার শক্তিশালী করা, স্টার্টআপে উৎসাহ দেওয়া, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিকি সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক নতুন ধাপে প্রবেশ করছে। এই সময়ে টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ও কর্মসংস্থান তৈরিতে মানসম্পন্ন বিদেশি বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্মেলনে ‘ফিকি এফডিআই রিপোর্ট ২০২৬’ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ জানান, নীতিগত সংস্কার ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশে বছরে ১৫ বিলিয়ন (১ হাজার ৫০০ কোটি) মার্কিন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঞ্চালনায় একটি উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category