জামালপুরের মাদারগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নারী ও তাঁর দুই ছেলেকে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে।মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের চর ভাটিয়ানী এলাকার আশাতুল্লাহ তালুকদার ব্রিজের কাছের এক আবাদি জমিতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মোছাঃ আল্পনা বেগম (৫৫) এ বিষয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে তাঁর দেবর মোঃ সুলতান তালুকদার (৫০) ছাড়াও প্রতিবেশী একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে- ১৯৮৭ সালের এক দলিলে চর ভাটিয়ানী মৌজার খতিয়ান ৩৯৮ ও দাগ ১৫৪১, ১৭৯৮ নম্বরের জমি কিনে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করছিলেন আল্পনা বেগমের প্রয়াত স্বামী সোহরাব হোসেন। ২০২২ সালে সোহরাব হোসেন মারা যাওয়ার পর থেকে অভিযুক্তরা জমিটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করলে ভুক্তভোগীরা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা আল্পনা বেগমকে গালাগাল, শারীরিক লাঞ্ছনা ও শ্লীলতাহানি করেন। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে এলে তাঁর দুই ছেলে সিমান্ত তালুকদার ও ফয়সাল তালুকদারকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আল্পনা বেগমের গলা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আল্পনা বেগম বলেন- “ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন। পরে চিকিৎসা গ্রহনের উদ্দেশ্যে যাবার পথে রাস্তায় লাঠি নিয়ে বাধা প্রদান করে মোঃ হানু। পরে সেখানে স্থানীয়রদের সহায়তায় আহত আমাকে এবং আমার ছেলে ফয়সাল তালুকদারকে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হামলার কিছু দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
এসব বিষয়ে জানতে বিবাদী সুলতান তালুকদারের মোবাইল ফোনে রাত সাড়ে ৭টার দিকে ফোন দেয়া হলে একজন নারী ফোন রিসিভ করেন এবং রাত ১০ টায় ফোন করার কথা বলেন। পরে রাত ১০ টায় দুই দুইবার ফোন দেয়া হলেও সুলতান তালুকদার ফোন রিসিভ করেননি। তবে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় জানান- তারা লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।