• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন

বিদ্যুতের সংকটে সরিষাবাড়ী হাসপাতাল, দুর্ভোগে রোগী-স্বজন

স্টাফ রিপোর্টার / ৩৪ Time View
Update : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

জামালপুরের সরিষাবাড়ী ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, জেনারেটরে সামান্য ত্রুটি থাকলেও তা মেরামত করা হয়েছে এবং বর্তমানে জরুরি প্রয়োজনে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দিনের বেলায় বিদ্যুৎ চলে গেলেও কোনোভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। তবে রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা থাকলেও ফ্যান চালানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ রোগীদের শারীরিক কষ্ট আরও বেড়ে যায়।

ঢুরিয়ারভিটা গ্রামের এক রোগীর স্বজন জেসমিন আক্তার বলেন, ‘হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে জেনারেটর অচল হয়ে পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেতে হয়। প্রচণ্ড গরমে অনেক রোগী হাতপাখা দিয়ে বাতাস করার চেষ্টা করেন। স্বজনদেরও রাত জেগে রোগীর পাশে বসে থাকতে হয়।

রোগীর স্বজন তারাকান্দি গ্রামের আল্পনা আক্তার বলেন, দ্রুত জেনারেটরটি মেরামত করে সচল করা হলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় রোগীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও নিরবচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি চর সরিষাবাড়ী গ্রামের রুবেল মিয়া বলেন, ‘রাতে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।

সরিষাবাড়ী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আমরা সরবরাহ করি।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং ও জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের কষ্ট হচ্ছে। হাসপাতালের জেনারেটরে সামান্য ত্রুটি ছিল, সেটি ঠিক করা হয়েছে। বর্তমানে শুধু রোগীর অপারেশনের সময় জেনারেটরটি চালু করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিতসহ হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হোক।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category