• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন

“অনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে হত্যা, কাউসারের জবানবন্দিতে বেরিয়ে এলো রহস্য”

স্টাফ রিপোর্টার / ২০২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

জামালপুরে নারী হত্যাকান্ড

আজ সকাল ১১টায় জামালপুর জেলা পিবিআই এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত জানান।

পিবিআই সংবাদ সম্মেলনে জানান গত ২৩/০৮/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ সকাল ১০.০০ ঘটিকা সংবাদ পাওয়া যায় জামালপুর সদর থানাধীন পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেইট সংলগ্ন জনৈক বাবুল মিয়া বিল্ডিংয়ের ৫ম তলার পূর্ব পাশে রুমের ভিতর ইশরাত জাহান মিমি নামের একজন মহিলার মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। সংবাদ প্রাপ্তির পর পিবিআই জামালপুর জেলা হতে ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে পৌছে ছায়াতদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে ডিসিস্টের মা মোছাঃ মুক্তা বেগম এজাহার নামীয় আসামী মোঃ কাউসার আহমেদ খানসহ অজ্ঞাতনামা ০২ জনের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৫২, তারিখ-২৪/০৮/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই, হেডকোয়ার্টার্স এর মাধ্যমে পিবিআই, জামালপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে মামলার তদন্তভার পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ)/রুপন কুমার সরকার, পিপিএম-বার এর উপর অর্পণ করা হয়।

মোঃ মোস্তফা কামাল, অ্যাডিশনাল আইজিপি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই, জামালপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব পংকজ দত্ত, পিপিএম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে মৃতদেহ সংক্রান্তে সংবাদ প্রাপ্তির পর হতেই পিবিআই, জামালপুর ইউনিট মামলার রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে ছায়াতদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অত্র মামলার এজাহার নামীয় আসামী মোঃ কাউসার আহমেদ খানকে (৩২) ২৪/০৬/২০২৬ খ্রিঃ, বিকাল ১৭.৪৫ ঘটিকার সময় জামালপুর সদর থানাধীন বাগেরহাটা এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার এজাহার পর্যালোচনা, তদন্ত ও আসামীর জবানবন্দি পর্যালোচনায় জানা যায় যে, ২০১৪ সালে ডিসিস্ট ঈশরাত জাহান মিমির জনৈক শাওন এর সাথে বিবাহ হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ০১ জন মেয়ে ও ০১ জন ছেলে সন্তান রয়েছে।

ডিসিস্টের স্বামী শাওন ২০২১ সালে মৃত্যুবরণ করার পর ডিসিস্ট তার সন্তানদের নিয়ে জামালপুর শহরে বসবাস করতে থাকে। এই হত্যাকান্ডের ঘটনার প্রায় ০৩ বছর পূর্বে গ্রেফতারকৃত আসামী কাউসার আহমেদ খান এর রাফি স্টোর নামক মনোহারি দোকানে কেনা কাটা করার সুবাধে  ডিসিস্টের সাথে পরিচয় হয়। ডিসিস্টের স্বামী কাতারে আছে বলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিয়মিত আসামী কাউসার আহমেদ খানের দোকানে গিয়ে নগদ ও বাকীতে কেনা কাটা করতো।

ডিসিস্ট দোকানের বকেয়া টাকা পরিশোধ করার জন্য আসামী কাউসারকে ডিসিস্টের বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। আসামী কাউসার ডিসিস্টের বাসায় গেলে ডিসিস্ট পরিকল্পিতভাবে আসামী কাউসারকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে এবং বলে তার স্বামী কিছুদিন আগে মারা গিয়েছে। ঐদিনই ডিসিস্টের অনৈতিক প্রলোভনে আসামী কাউসার শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে যায়।

শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি ডিসিস্ট পরিকল্পিতভাবে গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে ডিসিস্ট আসামী কাউসারকে ধারাবাহিকভাবে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের অর্থ আদায় করতে থাকে এবং আসামীর অর্থে উচ্চাভিলাষী জীবন যাপন শুরু করে। ডিসিস্ট নিজেও ইয়াবা সেবন করতো, একই সাথে ডিসিস্ট আসামী কাউসারকে ইয়াবা সেবনে আসক্ত করে আসামীর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা করতে থাকে।

এভাবে আসামী কাউসার তার সঞ্চিত অর্থ শেষ করার পর সে জামালপুর শহরস্থ জায়গা জমি বিক্রিসহ মা ও স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রির অর্থ ডিসিস্টের পিছনে ব্যয় করে। এছাড়াও ডিসিস্ট ব্ল্যাকমেইল করার জন্য বিভিন্ন লোকজনদেরকে টার্গেট করতো এবং আসামীকে সেই সমস্ত লোকজনদের ফাঁদে ফেলে বাসায় নিয়ে আসতে চাপ প্রয়োগ করতো। আসামী উক্ত কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে ডিসিস্ট ও আসামীর মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন ডিসিস্ট আসামী কাউসারকে ফোন করে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় এবং ডিসিস্ট আসামীর নিকট মোটা অংকের টাকা দাবী করলে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ডিসিস্ট আসামী কাউসারের স্ত্রীকে ফোন দিয়ে তাদের অবৈধ সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেয় এবং আসামী কাউসার তার সাথেই আছে বলে কাউসারের সাথে তার স্ত্রীকে কথা বলিয়ে দিতে গেলে আসামী কাউসার কথা বলতে না চাওয়ায় তাদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে আসামী কাউসার ডিসিস্ট ইশরাত জাহান মিমির গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়। এমতাবস্থায় আসামী মোঃ কাউসার আহমেদ খানকে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

এই বিষয়ে পিবিআই, জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার জানান যে, প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক তথ্য-উপাত্ত এবং আসামী মোঃ কাউসার আহমেদ খানের জবানবন্দি পর্যালোচনায় হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। স্বল্প সময়ে পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে তদন্ত পরিচালনা করে আসামিকে গ্রেফতার করায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট আভিযানিক টিমের কার্যক্রম প্রশংসনীয়। উক্ত ঘটনার সাথে আরো কেউ কোনভাবে জড়িত আছে কিনা তা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত কার্যক্রম নিরপেক্ষ ও আইনানুগভাবে সম্পন্ন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category