মহাসড়কে হামলা ও বাসে ভাঙচুরের প্রতিবাদে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর জামালপুর থেকে ঢাকাসহ দূরপাল্লার সব রুটে পুনরায় বাস চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের এক সফল বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বেলা ৩টা থেকে টার্মিনালগুলো থেকে যানবাহন ছেড়ে যেতে শুরু করে।
বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, জেলা প্রশাসক আমাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার ও বাস চলাচল স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।
বাস শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী সদস্য মুসাব্বির আহমেদ জুয়েল বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তার ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়ায় শ্রমিকরা আশ্বস্ত হয়েছেন। ফলে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বাস চলাচল শুরু করা হয়েছে।
হঠাৎ শুরু হওয়া এই ধর্মঘট মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার হওয়ায় জামালপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। উল্লেখ্য, এর আগে বুধবার জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা বাজারে স্থানীয় ‘ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে রাজিব পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে দুটি বাসে ভাঙচুর চালানো হয়। চালক ও সহযোগীদের মারধর করে টাকা-পয়সা ছিনতাইয়ের অভিযোগে বুধবার রাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয় শ্রমিক ইউনিয়ন। এ ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
একই ইস্যুতে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।