• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন

সেতুর কাজে বিলম্ব, মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ সড়কে জনভোগান্তি

স্টাফ রিপোর্টার / ৯৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার গুজামানিকা হয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা পর্যন্ত যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের একটি সেতু ভেঙে যাওয়ার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ওই এলাকার হাজারো মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির দুই পাশেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পাকা সড়ক রয়েছে। কিন্তু সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে মূল সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বিকল্প হিসেবে পাশের আবাদি জমির ওপর দিয়ে তৈরি করা কাঁচা পথ ব্যবহার করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙা অংশটি পার হতে গিয়ে ছোট-বড় যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিকল্প রাস্তাটিও অত্যন্ত সরু ও মাটির হওয়ায় শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বৃষ্টি হলে কাদায় পথটি আরও দুর্গম হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগীসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায়।

এলাকাবাসী জানান, সড়কটির পাশেই রয়েছে আদ্রা বাজার, আদ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আদ্রা উচ্চ বিদ্যালয়, দুইটি মাদ্রাসা, তিনটি বাজার, একটি ইউনিয়ন পরিষদ, ঈদগাহ মাঠ,৩ টি কেজি স্কুল ৫/৬ টি মসজিদের মুসল্লী, ছাত্র-ছাত্রী,ব্যবসায়ীসহ প্রতিদিন প্রায় ১০/১৫ হাজার মানুষ ও যানচলাচল করে। গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগপথ দিয়ে মেলান্দহ উপজেলা থেকে গুজামানিকা হয়ে মাদারগঞ্জ লউপজেলার সঙ্গে নিয়মিত যাতায়াত করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাস্তাটি অনেক ধরে সংস্করণের কাজের নামে ব্রীজটি নিলাম দিয়ে ভেঙ্গে নিয়ে যাওয়া হলেও এখনো ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানে কাজ ধরার নাম-গন্ধ নেই। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ভাঙা থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন যাতায়াতে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। জরুরি রোগী বা অন্য কোনো প্রয়োজনে যানবাহন নিয়ে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে পাশের আবাদি জমি ওয়ালা ড্রেন খনন করে সেই চলাচলের রাস্তাটাও আজ বন্ধ করছে।

এলাকাবাসীর দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত ভাঙা সেতুটি পুনর্নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেবে এবং দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category