জামালপুরের ইসলামপুরে বিশ্ব ইজতেমার আগে তথাকথিত জেলা ইজতেমা ও জোড় বন্ধ এবং রেলস্টেশন সংলগ্ন নতুন মার্কাজ মসজিদ পুনরুদ্ধারের দাবিতে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ইসলামপুর উপজেলা পরিষদের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়াম চত্বরে ওলামায়ে কেরাম ও শুরায়ে নেজাম তাবলিগ জামাতের জামালপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
২০২৭ সালের জানুয়ারিতে টঙ্গীর ময়দানে শুরায়ে নেজামের অধীনে বিশ্ব ইজতেমার সফল আয়োজন নিশ্চিত করা, এর আগে ইসলামপুরে জেলা ইজতেমা ও জোড় আয়োজন বন্ধ এবং রেলস্টেশন সংলগ্ন নতুন মার্কাজ মসজিদ পুনরুদ্ধারের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইত্তেফাকুল ওলামা পরিষদ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মুফতি শামসুদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওলামা ঐক্য পরিষদ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবুল কাশেম।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইত্তেফাকুল ওলামা পরিষদ ইসলামপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতি ওমর ফারুক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামালপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সিরাজুল হক সিরাজী, তাবলিগ জামাতের জুবায়েরপন্থি ইসলামপুর উপজেলা আমির ক্বারী মো. আবুল হোসেন সোহাগসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত ওলামা-মাশায়েখ ও তাবলিগ জামাতের জুবায়েরপন্থি সাথীরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার আগে জেলা ইজতেমার নামে কোনো আয়োজন তাঁরা মেনে নেবেন না। ইসলামপুরে সাদপন্থিদের উদ্যোগে জেলা ইজতেমার নামে যে আয়োজনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, তাঁদের আপত্তি উপেক্ষা করে এ ধরনের আয়োজনের চেষ্টা করা হলে জেলার ওলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদি জনতাকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। একই সঙ্গে ইসলামপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন নতুন মার্কাজ মসজিদ পুনরুদ্ধার এবং সেখানে সাদপন্থিদের কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে জেলার সব ওলামা-মাশায়েখকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
মহাসমাবেশ থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে টঙ্গীর ময়দানে শুরায়ে নেজামের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমায় সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি অনুযায়ী, আগামী ৫, ৬ ও ৭ নভেম্বর ২০২৬ ইসলামপুর নতুন মার্কাজ মসজিদে সাদপন্থিদের উদ্যোগে জেলা ইজতেমা আয়োজনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করেই স্থানীয়ভাবে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও মতবিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।