ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র কারও আধিপত্যই মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) জাতীয় ছাত্রশক্তি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জাতি ঋণী। বিভিন্ন সময়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানের স্বীকৃতি এখনো পায়নি।
সরকারের কাছে আমাদের দাবি, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এর থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো মূল্যবোধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা। দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনর্গঠন প্রয়োজন। ভিসি নিয়োগ, শিক্ষক নিয়োগ যেন নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জবির অনেক বড় ভূমিকা ছিল। আমরা আন্দোলনের বিভিন্ন সময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অপেক্ষায় থাকতাম। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা অনেক কিছু অর্জন করতে পারেনি মন্তব্য করে নাহিদ বলেন, আমরা মনে করি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলমান। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্রের জন্য, ভোটাধিকারের জন্য। এবার আমরা দুটি ভোট দিয়েছি। কিন্তু এখনো গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হয়নি।
গণঅভ্যুত্থান হয়েছে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির জন্য, নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য। আমরা কারও আধিপত্য মেনে নেবো না, ভারতেরও না, আমেরিকারও না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো উন্নত ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ঢাকার মধ্যে অবস্থান হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হন। রাজধানীর মধ্যে আরেকটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে পারলে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বড় অবদান রাখতে পারবে।
আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. সাবিনা শারমিন, প্রক্টর প্রফেসর মো. নাসির উদ্দিন, ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার প্রমুখ বক্তব্য দেন।