তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে বিশেষ ঋণ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন আর্থিক সহায়তা পাবেন তরুণ উদ্যোক্তারা।
‘উদ্যোগ: উপজেলা ভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’র মাধ্যমে এ সুবিধা দেওয়া হবে। নির্বাচিত উদ্যোক্তার মোট সহায়তার ৫০ শতাংশ ব্যাংক ঋণ এবং বাকি ৫০ শতাংশ অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচিটির বিষয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যেসব উদ্যোগে মিলবে সহায়তা
কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, গবাদিপশু পালন, পর্যটন, সেবাখাত এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ এ কর্মসূচির আওতায় বিবেচনা করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, অর্থায়নের পাশাপাশি নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা এবং বাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হবে।
আবেদন শুরু ১৬ সেপ্টেম্বর
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করা হবে। এরপর নির্ধারিত ফরমে উপজেলার যেকোনো ব্যাংক শাখায় আবেদন করা যাবে।আবেদনের শেষ দিনে যেসব বাংলাদেশি নাগরিকের বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলায় বসবাস করেন, তারা পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের জন্য এক মাস সময় রাখা হবে।
শুরুতে ৮ জেলায় কার্যক্রম
প্রথম পর্যায়ে মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনা—এই আট জেলায় কর্মসূচিটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পর্যায়ক্রমে ৬৪ উপজেলায় এটি বাস্তবায়ন করা হলে প্রতি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন উদ্যোক্তাকে নির্বাচিত করে সহায়তা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে সারাদেশে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে প্রতি বছর ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে সহায়তার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ঋণের সুদ ৪ থেকে ৭ শতাংশ
কর্মসূচির আওতায় দেওয়া ঋণের অংশে গ্রাহক পর্যায়ে সুদ বা মুনাফার হার ৪ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে থাকবে। এ ঋণের জন্য উদ্যোক্তাকে কোনো ধরনের জামানত দিতে হবে না।
তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অংশটি সুদমুক্ত ঋণে রূপান্তর করা হবে। সেক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং ভবিষ্যতে অন্য কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হতে পারেন।
৫০০ কোটি টাকার তহবিল
কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে অনুদানের অর্থ জোগান দিতে ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে অর্থ নেওয়া হবে।