• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

১৪২ রানের লক্ষ্যে ১১৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ

দ্য ডেইলি ফ্রন্ট নিউজ ডেস্ক / ৯৫ Time View
Update : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্টের পর ওয়ানডেতেও ব্যাটিং ব্যর্থতা বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। স্রেফ ১১৬ রানে গুটিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছে টাইগাররা। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সোমবার নাহিদ রানার রেকর্ড গড়া বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে ১৪১ রানে গুঁটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। কিন্তু মামুলি এই লক্ষ্যও পূরণ করতে পারেনি মেহেদি হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন দলটি। ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানে গুটিয়ে ম্যাচ হেরেছে ২৫ রানের বড় ব্যবধানে।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই পথ হারায় বাংলাদেশ। দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি টপ অর্ডারদের কেউ। দলীয় ১৭ রানের মধ্যে ফেরেন তিনজনই। শুরুটা করেন তানজিদ হাসান, মুজারাবানির বলে ক্যাচ নেন নিয়ামহুরি।

মুজারাবানির পরের ওভারে ক্যাচ আউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত। পরের ওভারে নিয়ামহুরি নেন সৌম্য সরকারের ক্যাচ, এবার বোলার ছিলেন রিচার্ড এনগারাভা। এরপর নুরুল হাসান সোহান ও তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে লড়াইয়ের আভাস দেয় দল। দুজন গড়েন ৮৮ বলে ৪৯ রানের জুটি। জুটি ভাঙতেই আবার নিয়মিত বিরিতিতে উইকেট হারায় তারা।

নিয়ামুরির বলে ডিপ থার্ডে দাঁড়িয়ে হৃদয়ের ক্যাচ নেন বেন কারান। হৃদয়ের অবদান ৫৮ বলে ২৫। মোসাদ্দেক হোসেন ও মিরাজও দ্রুত ফিরলে দায়িত্ব ছিল থিতু হওয়া নুরুলের উপর। কিন্তু টেকেননি তিনিও। এই কিপার-ব্যাটার করেন ইনিংস সর্বোচ্চ ৩১ রান।

মুস্তাফিজকে ক্যাচ বানিয়ে ম্যাচ শেষ করে দেন এনগাভারা। জিম্বাবুয়ের চার বোলারের সবাই পেয়েছেন উইকেটের দেখা। তিনটি করে নিয়েছেন এনগাভারা ও ইভান্স, দুটি করে মুজারাবানি ও নিয়ামহুরি।

এর আগে নাহিদের গতি, বাউন্স আর ইয়োর্কারের অবিশ্বাস্য মিশেলে দিশেহারা জিম্বাবুয়ের ব্যাটাসম্যানরাও গুটিয়ে যায় দেড়শর আগেই।

১০ ওভারে ২১ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েন নাহিদ রানা। এটিই বাংলাদেশের বোলারদের ওয়ানডেতে সেরা বোলিং। এতদিন রেকর্ডটি ছিল মাশরাফি বিন মুর্তজা ও রুবেল হোসেনের— ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ১০ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট পেয়েছিলেন মাশরাফি, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৩ সালে ৫.৫ ওভারে ২৬ রানেই ৬ উইকেট পান রুবেল। এছাড়া ৬ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন ও শরিফুল ইসলামও।

৩২ রানে ২ উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে মেঘলা আবাওয়ায় টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়ের শুরুটা মন্দ ছিল না। ৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি পায় তারা। কিন্তু নাহিদের গতি, বাউন্স, ইয়র্কার আর আগ্রাসনে পরের ৩৬ রানে যাওয়ার আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা।

শুরুটা অবশ্য হয়েছিল মিরাজের দুর্দান্ত থ্রোয়ে বেন কারানের (১৯ বলে ১৮) রান আউটে। এক বল পরেই তাসকিনের বলে ক্যাচ তুলে দেন আরেক ওপেনার ব্রায়ন বেনেটও (২৪ বলে ১৭)।

নিজের পরের ওভারে ক্রেইগ আরভিনকে রানের খাতা কুলতে দেননি তাসকিন। মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে যান আরভিন। পরের গল্পটা নাহিদের। নিজের টানা ৪ ওভারে তুলে নেন ৫ উইকেট। ১২ বলে ১ রান করে উইকেটকিপার নুরুলের হাতে ক্যাচ দেন সিকান্দার রাজা। স্লিপে শান্তর হাতে ক্যাচ দেন ওয়েসলি মাধেভেরে।

এক প্রান্ত তখনও আকড়ে ছিলেন ইনোসেন্ট কাইয়া। তিন বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা এই টপঅর্ডারকেও শান্তর হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান নাহিদ। কাইয়া ফেরেন ৩৯ বলে ২৬ রান করে।

একই ওভারে ব্রাড ইভান্সকে করেন এলবিডব্লিউ। জিম্বাবুয়ের স্কোর হয়ে যায় ৮ উইকেটে ৭০! ৬ ওভারে মাত্র ১২ রানেই ৫ উইকেট পূর্ণ করেন নাহিদ। ১৩ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার পেলেন ৫ উইকেট। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফাইফার এখন তারই। সবার উপরে আছেন ছয়বার ৫ উইকেট পাওয়া মোস্তাফিজুর রহমান।

নবম উইকেটে ৬৩ রানের জুটি গড়েন এনগারাভা ও নিয়ামুরি। এর মধ্যে তানজিদ ক্যাচ ছেড়েছেন এনগারাভার। সেই নাহিদ এসেই ভাঙেন জুটি। দুর্দান্ত ইয়োর্কারে অধিনায়কের স্টাম্প গুঁড়িয়ে দেন ডানহাতি পেসার।

মিরাজের বলে সুইপ করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে ফেরেন নিয়ামুরি। ইনিংসে ৫১ বলে সর্বোচ্চ ৩৩ রান তার।

এই রানই যথেষ্ঠ প্রমাণ করে জিম্বাবুয়ের বোলাররা। সিরিজের পরের ম্যাচ বৃহসস্পতিবার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে: ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ (বেনেট ১৭, কারান ১৮, কাইয়া ২৬, আরভিন ০, রাজা ১, মাধেভেরে ০, মাডান্ডে ২, ইভান্স ৩, নিয়ামুরি ৩৩, এনগারাভা ২৭, মুজারাবানি ৪*; তাসকিন ৭-১-৩২-২, মুস্তাফিজ ৬-০-১৯-০, নাহিদ ১০-২-২১-৬, সৌম‍্য ৩-০-১৭-০, রিশাদ ৫-০-২৭-০, মিরাজ ৫.৪-০-২২-১)

বাংলাদেশ: ৩৩.১ ওভারে ১১৬ (তানজিদ ৮, সৌম্য ৬, শান্ত ৩, হৃদয় ২৫, সোহান ৩১, মোসাদ্দেক ৩, মিরাজ ১০, রিশাদ ৩, তাসকিন ৫, মুস্তাফিজ ৫, নাহিদ ৫*; এনগারাভা ৭.১-১-৩১-৩, মুজারাবানি ১০-১-২৪-২, ইভান্স ১০-২-৩৪-৩, নিয়ামুরি ৬-২-২২-২)।

ফল: জিম্বাবুয়ে ২৫ রানে জয়ী।

সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে জিম্বাবুয়ে ১-০তে এগিয়ে।

ম্যান অব দা ম্যাচ: নিউম্যান নিয়ামুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category